আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা দুঃসাহস দেখায়, তবে তার ‘কঠোর ও ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়া হবে বলে অত্যন্ত জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি। মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধংদেহী উত্তেজনা তীব্র রূপ নেওয়ায় তিনি এই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জেনারেল আবদুল্লাহি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আকস্মিক হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ইরানি এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন:
“যেকোনো আগ্রাসন বা নিষ্ঠুরতার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত দৃঢ় ও ধ্বংসাত্মকভাবে। সামরিক সংঘাতে একের পর এক কৌশলগত ব্যর্থতার পর শত্রু (যুক্তরাষ্ট্র) এখন আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ ও political নেতৃত্বের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। কিন্তু এই হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী, সরকার ও জনগণের মধ্যকার ইস্পাতকঠিন ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।”
মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি আরও দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই দেশটির জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করে বলেন, এবারের সংঘাতে মার্কিন প্রশাসনকে অতীতের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও ‘বেশি মূল্য’ দিতে হবে।
ইরানি জেনারেলের এই রণহুঙ্কারের ঠিক আগেই শনিবার ইরানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরণের বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। এর আগে জর্ডানে ইরানি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার পর, ওয়াশিংটন এই চড়া প্রতিশোধমূলক বিমান অভিযান চালায় বলে নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর বিবৃতি ও লক্ষ্যস্থল:
• ট্রাম্পের নির্দেশ: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই বিমান হামলা শুরু হয়।
• মূল লক্ষ্য: ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে (Strait of Hormuz) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া।
• টার্গেট: জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলাকারী এলিট ফোর্স 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' (IRGC)-এর গোপন আস্তানা ও সক্ষমতা ধ্বংস করা।
ইরানের আধাসরকারী সংবাদ সংস্থা মেহের (Mehr News Agency) নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ফাইটার জেট হামলাটি দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় সিরিক এলাকার কাছাকাছি স্থানে আঘাত হেনেছে। তবে প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক হতাহত কিংবা বড় ধরণের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিগত টানা কয়েকদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি যেকোনো মুহূর্তে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |