আন্তর্জাতিক ও ক্রীড়া ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ২০ জুলাই, ২০২৬
টানা এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ, প্রতিদিনের বোমাবর্ষণ আর চরম মানবিক সংকটের কঠিন বাস্তবতার মাঝেই গাজা উপত্যকায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ফিরে এসেছিল এক চিলতে স্বস্তি ও আনন্দ। গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের ঐতিহাসিক নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন ক্যাফে ও অস্থায়ী স্ক্রিনে জড়ো হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল উপভোগ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। রোববারের (১৯ জুলাই) সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নুসেইরাত ক্যাম্পে রীতিমতো আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি তরুণরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনাল ছিল যুদ্ধের মানসিক চাপ ও ট্রমা থেকে কিছু সময়ের জন্য মন সরিয়ে রাখার এক অনন্য মাধ্যম।
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকদের সিংহভাগেরই অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল স্পেনের দিকে। এর পেছনে কোনো ফুটবলীয় সমীকরণ নয়, বরং কাজ করেছে গভীর ভূরাজনৈতিক কৃতজ্ঞতাবোধ।
বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে আসা গাজার এক বাসিন্দা আবেঘন কণ্ঠে বলেন:
“আমরা আজ এখানে সবাই স্পেনকে সমর্থন করতে একত্রিত হয়েছিলাম। কারণ, এই কঠিন সময়ে স্পেন রাষ্ট্রটি এবং তাদের সরকার ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও আমাদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। স্পেনের এই শিরোপা জয় আমাদেরও এক প্রকার মানসিক জয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই সাধারণ ফুটবল সমাবেশের মাধ্যমে মূলত ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্রসত্তাকে সমর্থন জানানো দেশগুলোর প্রতি গাজাবাসীর সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গাজার বাসিন্দাদের স্পষ্ট ভাষ্য—তারা কোনো যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী নয়, বরং তারা এমন একটি ফিলিস্তিনি জাতি, যারা পৃথিবীতে সবার মতো মাথা উঁচু করে শান্তিতে বাঁচতে চায়।
রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা।
অন্যদিকে, ২০২২ সালে কাতারের মরুদ্যানে সোনালি ট্রফি জেতা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবার তাদের মুকুট ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সমস্ত সমীকরণের ঊর্ধ্বে উঠে গাজার নুসেইরাত ক্যাম্পের এই ফুটবল উন্মাদনা প্রমাণ করেছে—যুদ্ধ ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মানুষের ভেতরের মানবিক সত্তা ও ক্রীড়াপ্রেমকে কোনো স্বৈরাচারী শক্তিই দমিয়ে রাখতে পারে না।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |