| বঙ্গাব্দ

বিড়ি-সিগারেট বিক্রির উপার্জন কি হালাল? ব্যাখ্যা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-07-2026 ইং
  • 10348 বার পঠিত
বিড়ি-সিগারেট বিক্রির উপার্জন কি হালাল? ব্যাখ্যা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ছবির ক্যাপশন: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধূমপান না করলেও বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় হারাম: ইসলামি দৃষ্টিকোণ ব্যাখ্যা করলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ও জীবনধারা ডেস্ক

২৫ জুলাই, ২০২৬

ইসলামে যে বস্তু খাওয়া, পান করা বা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, সেটির ক্রয়-বিক্রয়ও বৈধ্য নয়। সম্প্রতি এক অনুসারীর বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করার উপার্জনের বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ এই মত প্রকাশ করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো দোকানদার নিজে ধূমপান না করলেও কিংবা শতভাগ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললেও কেবল বিড়ি-সিগারেট বিক্রির কারণে সেই নির্দিষ্ট লভ্যাংশ হালাল হবে না।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • মূল বিধান: ইসলামে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ পণ্যের বেচাকেনাও নিষিদ্ধ। নিজে ধূমপান না করলেও বিড়ি-সিগারেট বিক্রির লাভ হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

  • সংমিশ্রিত উপার্জনের হিসাব: একই দোকানে হালাল ও হারাম উভয় পণ্য থাকলে, কেবল হারাম পণ্যের লাভটুকু হারাম হবে; চাল, ডাল বা অন্যান্য বৈধ পণ্যের আয় হালালই থাকবে।

  • ব্যবসায় সততা: বৈধ পণ্য হলেও প্রতারণা বা ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করলে (যেমন: দেশি ডালের সাথে নিম্নমানের ডাল মেশানো) সেই উপার্জন হারাম হয়ে যায়।

ধূমপান না করলেও কি বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় হালাল?

বিষয়টির বিষদ ব্যাখ্যা দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেক সময় দেখা যায় কোনো দোকানদার নিজে লম্বা দাড়িওয়ালা, নিয়মিত নামাজ পড়েন, হাজি সাহেব এবং নিজে বা পরিবারের কেউ ধূমপান করেন না। তবে কেবল ব্যক্তি পরহেজগার হলেই বিড়ি-সিগারেট বিক্রির উপার্জন বৈধ্য হয়ে যায় না। কারণ, পণ্টির বেচাকেনা মূল ইসলামি নীতির সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য:

"দোকানদার নিজে লম্বা দাড়িওয়ালা, নামাজি, হাজি—নিজে বিড়ি-সিগারেট খান না, তার পরিবারের কেউও খায় না; কিন্তু যদি তিনি এগুলো বিক্রি করেন, তাহলে সেই বিক্রির উপার্জন হালাল হবে না।"

হালাল ও হারাম পণ্যের মিশ্র উপার্জন এবং সততার গুরুত্ব

ইসলামি ক্রয়-বিক্রয়ের মূল নীতি:
• নির্দিষ্ট পণ্যের দায়   : দোকানে হারাম পণ্যের লাভটুকু হারাম, কিন্তু বৈধ পণ্যের (চাল, ডাল, তেল) উপার্জন হালাল থাকবে।
• ভেজাল ও প্রতারণার বিধান: পণ্যের ধরনে হালাল হলেও ধোঁকাবাজি বা অসৎ উপায়ে বিক্রির আয় হারাম।

শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে ব্যবসায় সততার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইসলামে কেবল পণ্যের ধরনই নয়, ব্যবসার পদ্ধতি ও স্বচ্ছতাও উপার্জনের হালাল-হারাম নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ভালো মানের চাল বা ডালের সাথে নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে খাঁটি বলে বিক্রি করে, তবে সেই উপার্জনেও হারাম মিশ্রিত হয়ে যাবে।

গভীর সামাজিক ও ইসলামি বিশ্লেষণ (In-Depth Analytical Breakdown)

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                     উপাসনা ও উপার্জনের ইসলামি মূল্যবোধ                  │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • ব্যক্তি ও পণ্যের পার্থক্য: ব্যক্তিগত ইবাদত বা বুজুর্গি কোনো অবৈধ       │
│   বা ক্ষতিকর পণ্যের বাণিজ্যকে ইসলামে বৈধতা দিতে পারে না।              │
│ • সামাজিক দায়িত্ববোধ: জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি বন্ধের     │
│   মাধ্যমে ইসলামি নীতি অনুসরণ ও হালাল ব্যবসার সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

১. উপার্জনের পবিত্রতা ও ইবাদত কবুলিয়াত

ইসলামি শরিয়তে উপার্জনের হালাল হওয়া ইবাদত কবুলের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। ব্যবসায় ক্ষুদ্র লাভ অপেক্ষা উপার্জনের বিশুদ্ধতাকে প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

২. সততা ও আমানতদারী

ব্যবসায়ীরা সমাজের চালিকাশক্তি। ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে ভেজালমুক্ত ও কল্যাণকর পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে হালাল উপার্জনের প্রতি আলোকপাত করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency