আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া ডেস্ক
২৮ জুলাই, ২০২৬
তীব্র ও প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তাপ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ১৭টি এলাকায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাপপ্রবাহ সতর্কতা (Serious Heat Wave Warning) জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। অপরদিকে, জাপানের এক বড় অংশে চরম দাবদাহের পাশাপাশি প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের দ্বিমুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোম ও মঙ্গলবার (২৭-২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরগুলোর প্রতিবেদনের বরাতে এ চরম আবহাওয়ার তথ্য সামনে আসে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা: দেগু, দক্ষিণ গিয়ংসাং ও উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশের মোট ১৭টি দক্ষিণ উপাঞ্চলে কেএমএ (KMA) জীবননাশী তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ 'রেড অ্যালার্ট' জারি করেছে।
রেকর্ড তাপমাত্রা: দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসান ও মিরিয়াং অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৭.৪° সেলসিয়াস এবং বায়ুর তাপমাত্রা ৩৯.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে।
পশুপাখি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষয়ক্ষতি: কেবল দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশেই গত মে থেকে ১১২ জন তাপজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০,৫৯৯টির বেশি গবাদিপশু ও পোলট্রি প্রাণীর মৃত্যু ঘটেছে।
জাপানের দ্বিমুখী দুর্যোগ: জাপানের ২৩টি প্রিফেকচারে হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারির পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত, টর্নেডো ও পাহাড়ি ভূমিধসের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (KMA) জানায়, যখন অনুভূত তাপমাত্রা (Apparent Temperature) ৩৮° সেলসিয়াস বা সর্বোচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ৩৯° সেলসিয়াসে পৌঁছায় বা তা অতিক্রম করে, তখনই এই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারি করা হয়। এটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়ার তাপপ্রবাহের দ্রুত চিত্রচিত্র (জুলাই ২০২৬):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • সতর্কতার আওতায় : দেগু, গিমহে, ইয়াংসান, পোহাং, গিয়াংজুসহ ১৭টি এলাকা। │
│ • সর্বোচ্চ তাপমাত্রা : ইয়াংসানে ৩৯.৩° সে. ও অনুভবযোগ্য ৩৭.৪° সে. রেকর্ড। │
│ • প্রাণিসম্পদ ক্ষতি : ১০,৫৯৯টি গবাদিপশু (২,৪৬৯ শুকর ও ৮,১৩০ মুরগি) মৃত। │
│ • স্বাস্থ্যঝুঁকি : অতিরিক্ত রোদে না যাওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পানের নির্দেশ।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
দক্ষিণ কোরিয়ার মতো জাপানের চিত্রও সমপরিমাণ উদ্বেগজনক। দেশটির পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তাপদাহ চরম মাত্রা ছুঁলেও উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় অংশে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে মুষলধারে বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) দেশের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ২৩টিতেই তীব্র হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারি করেছে। তা ছাড়া একই সাথে বজ্রপাত, প্রবল বাতাস এবং পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ব্যাপারে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।
জাপানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সূচক (২০২৬):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. চরম তাপপ্রবাহ জোন : ওয়াকায়ামা ও কোচি প্রিফেকচারে তাপমাত্রা ৩৭.৪° সেলসিয়াস।│
│ ২. দুর্যোগ সতর্কতা : টর্নেডো, আকস্মিক বন্যা, নদী প্লাবন ও পাহাড়ি ভূমিধস। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ পূর্ব এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়া │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব: তিব্বতীয় ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উচ্চচাপ বলয় │
│ একত্রিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে 'হিট ডোম' (Heat Dome) তৈরি করেছে। │
│ • আর্দ্রতার প্রভাবে ঝুঁকি: অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা │
│ প্রকৃত বায়ু তাপমাত্রার চেয়েও বেশি অনুভূত হয়ে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। │| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |