ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম অনলাইন নিপীড়ন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নারী বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলন সংসংক্রান্ত উগ্রপন্থি বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে জেন-জি (Gen-Z) নারী আন্দোলনকারীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁদের ছবি ক্রপ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিকৃত ছবি বানিয়ে এবং পরিচয় প্রকাশ (ডক্সিং) করে তাঁদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হচ্ছে অনলাইনে।
গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুলাই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তবে আন্দোলন শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, স্লোগান দেওয়া পুরুষদের বাদ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল নারী আন্দোলনকারীদেরই লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।
[যন্তর মন্তরে বলপ্রয়োগ] ➔ [আন্দোলন প্রত্যাহার (২৫ জুলাই)] ➔ [নারী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সাইবার আক্রমণ]
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিভিন্ন উগ্রপন্থি পেজ ও প্রভাবশালী অ্যাকাউন্ট থেকে নারী আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে:
দ্য জয়পুর ডায়ালগস: এই অ্যাকাউন্টটি থেকে আন্দোলনকারী নারীদের মুখের ক্লোজ-আপ ছবি পোস্ট করে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ বা ‘ডক্সিং’ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্যে করে ক্ষোভ প্রকাশ করা এক তরুণীর ভিডিও শেয়ার করে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে দাবি জানায় তারা।
বিয়িং হিউমার (৪ লাখ+ ফলোয়ার): ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে অশালীন ভাষায় সমালোচনা করার ভিডিও পোস্ট করে নারীদের নৈতিকতা নিয়ে আক্রমণ করা হয়।
লে. কর্নেল সুশীল সিং শেখাওয়াত: এক নারী আন্দোলনকারীর স্লোগান দেওয়ার ভিডিও শেয়ার করে নারীদের ঐতিহ্যগত ভূমিকা, সৌন্দর্য ও কোমলতার দোহাই দিয়ে তাঁদের শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যকার সমঝোতা সত্ত্বেও বিহারে ৩০০ জনের বেশি, পশ্চিমবঙ্গে ১৬ জন এবং আসামে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। অবশ্য পরবর্তীতে বিহার ও আসাম সরকার তরুণ শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া ও আইনি মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে করা আপত্তিকর পোস্ট মুছে ফেলতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টকে নোটিশ ইস্যু করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের পরও অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ ও ট্রলিং অব্যাহত রয়েছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা অল্ট নিউজ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জুবায়ের ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-কে জানান, ভারতের শাহিনবাগ ও ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের সময়েও ঠিক একই কৌশল দেখা গিয়েছিল। আন্দোলনকে জনসমক্ষে হেয় করতে এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতেই মূলত নারীদের চরিত্রহনন ও বিকৃত ছবি ছড়ানোর এই নীতি নেওয়া হয়।
ইতোমধ্যেই অনলাইনে বিকৃত ছবি ছড়িয়ে সাইবার নিপীড়নের অভিযোগে মুম্বাইয়ে মামলা দায়ের করেছেন আন্দোলনের পরিচিত মুখ রিয়া যাদব আহির।
পুরো ঘটনাকে বিজেপি সমর্থিত আইটি সেলের সুপরিকল্পিত কাজ বলে দাবি করেছেন লেখক হুসাইন হায়দরি। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশকে ব্যবহার করে তরুণীদের গ্রেফতার করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় তাঁদের হুমকি ও অশালীন গালিগালাজ দিতে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |