| বঙ্গাব্দ

টুয়াখালীতে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে ভাইকে মারধরের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-03-2025 ইং
  • 4744443 বার পঠিত
টুয়াখালীতে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে ভাইকে মারধরের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ছবির ক্যাপশন: টুয়াখালীতে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে ভাইকে মারধরের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীতে স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করার অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মিন্টুর বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার ভাই মো. এজাজ আহমেদ তুনাককে মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে।

ঘটনা ও অভিযোগ

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, গত কিছু দিন আগে পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়নের এক স্কুল ছাত্রী তাসনিম আলম তুরাকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন জামাল হোসেন মিন্টুর ছেলে এবং তার সহযোগীরা। তাসনিমের মা আ‌ই‌রিন বেগম তার মেয়ের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেন এবং ওই যুবকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশকে জানিয়ে দেন। তাসনিমের ভাই মো. এজাজ আহমেদ তুনাকও এ প্রতিবাদে অংশ নেন।

তবে, এরপর মিন্টু ও তার সহযোগীরা রাগান্বিত হয়ে তুনাককে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে এমনভাবে আঘাত করা হয় যে তুনাক রক্তাক্ত ও গুরুতরভাবে আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট ছিল এবং পরে চিকিৎসা নেওয়া হয়। আ‌ই‌রিন বেগম অভিযোগ করেছেন, "আমার ছেলে শুধু প্রতিবাদ করেছিল, আর তার জন্য তাকে এইভাবে মারধর করা হলো।"

সংবাদ সম্মেলনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

রোববার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আ‌ই‌রিন বেগম ও তার পরিবার এই ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি জানান, "আমার মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার জন্য আমার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে, যা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমার পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আমরা চাই, যারা আমাদের ওপর এমন জুলুম করেছে, তাদের শাস্তি হোক এবং যেন অন্য কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।"

এছাড়া, আ‌ই‌রিন বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ শুরুতে মামলা গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি জানান, আসামিরা বারবার তাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।

পুলিশ তদন্ত করছে

পটুয়াখালী পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে এই ধরনের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে এগোচ্ছে না। কিছু প্রতিবেশী এবং সমাজকর্মী মনে করছেন যে, এই ঘটনাটি সমাধান না হলে, আরও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে এবং তা সমাজে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মিন্টুর দাবি

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মিন্টু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, "আমি জানি না কী ঘটেছে। আমাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা। এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।" মিন্টু আরও বলেন, "আমি জানি না কেন আমাকে এই ধরনের সমস্যায় জড়ানো হচ্ছে। যদি এই ধরনের কিছু ঘটে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু আমি এই ঘটনায় জড়িত নই।"

স্থানীয় সমাজের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, এই ধরনের সহিংস ঘটনা এবং অবিচার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং হতাশা তৈরি করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, তাদের এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং স্থানীয় নেতা-প্রতিনিধিরা প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।

এদিকে, স্থানীয় সমাজকর্মীরা দাবি করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

পরবর্তী ব্যবস্থা

এ ঘটনার পর, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ আশা করছে, পুলিশ দ্রুত সঠিক তদন্ত করবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তারা আরও দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার পর দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।

এছাড়া, ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তারা এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন এবং স্থানীয় আইনজীবীদের সহায়তা নিবে, যাতে তাদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সামাজিক সুরক্ষা ও শাস্তির মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, এবং তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করছেন।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency