আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পর্যালোচনা ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৬
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।
কংগ্রেসের সিনিয়র এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেলটি সম্প্রতি সংসদে পেশ করা পঞ্চদশ 'অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট'-এ সতর্ক করে বলেছে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে।
উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু: ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও দুই দেশের মূল আলোচনা থমকে আছে।
সংসদীয় প্যানেলের অসন্তোষ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও ফলাফল চেয়েছে শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি।
তিস্তা চুক্তির স্থবিরতা: দীর্ঘস্থায়ী তিস্তা নদী পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনো বাস্তবসম্মত অগ্রগতি না হওয়ায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে কমিটি।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: পানি বণ্টন ইস্যুটি বাংলাদেশের নতুন সরকার এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য—উভয় পক্ষের কোটি কোটি মানুষের জীবনজীবিকা ও সুপেয় পানির সাথে সরাসরি যুক্ত।
সংসদীয় কমিটির দেওয়া ৩৩টি সুপারিশের মধ্যে ভারত সরকার ২৫টি গ্রহণ করলেও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও নদী সহযোগিতা সংক্রান্ত বাকি ৮টি প্রধান সুপারিশে সুনির্দিষ্ট সমাধান মেলেনি।
কমিটি পূর্বেই ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু আগেই হালনাগাদ জলবায়ু ও হাইড্রোলোজিক্যাল ডেটা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের সাথে আলোচনা করে ভারতের যৌথ কৌশলী দরকষাকষির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির সুপারিশ করেছিল।
গঙ্গা পানি চুক্তি ২০২৬: বর্তমান চিত্র ও চ্যালেঞ্জ
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • চুক্তির সূচনা : ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষর (৩০ বছরের জন্য কার্যকর)। │
│ • মেয়াদ সমাপ্তি : ২০২৬ সাল। │
│ • বাধা ও অস্পষ্টতা : ভারতের আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার ধীরগতি ও প্রস্তাবনাহীনতা।│
│ • আঞ্চলিক প্রভাব : কৃষি, সুপেয় পানি, পরিবেশ এবং দুই দেশের ডিপ্লোম্যাটিক ট্রাস্ট। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
কমিটি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছে যে, শুধু পদ্ধতিগত প্রথাগত বৈঠক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দোহাই দিয়ে আর সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ নতুন সরকারের অধীন কৌশলগত সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় বন্ধন জোরদার করার যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে বিলম্ব ঘটালে তার নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক কূটনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি (ভারত):
"পানি বণ্টন কেবল একটি কারিগরি বিষয় নয়, এটি উভয় দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কৃষি ব্যবস্থার ভিত্তি। অর্থপূর্ণ আলোচনার সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কালক্ষেপণ করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পানির সীমানা ছাড়িয়ে সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের ভবিষ্যৎকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।"
কেন গঙ্গা ও তিস্তা চুক্তির নবায়ন ভারতের আঞ্চলিক নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
ভৌগোলিক ও পরিবেশগত উপাত্তের পরিবর্তন: ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির পর থেকে গত ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন এবং পানির প্রবাহে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নতুন চুক্তিতে সাম্প্রতিক হাইড্রোলোজিক্যাল ডেটা যুক্ত না করলে তা উভয় দেশের জন্য অকার্যকর হতে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতির জটিলতা: ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অমতের কারণে যেমন তিস্তা চুক্তি আটকে আছে, তেমনি গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রেও বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করে ঢাকার সাথে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো দিল্লির জন্য প্রধান কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |