| বঙ্গাব্দ

মার্কিন ভিসা বন্ড নীতি স্থায়ী: ২০ হাজার ডলার জামানতের মুখে বাংলাদেশীরা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2026 ইং
  • 68526 বার পঠিত
মার্কিন ভিসা বন্ড নীতি স্থায়ী: ২০ হাজার ডলার জামানতের মুখে বাংলাদেশীরা
ছবির ক্যাপশন: মার্কিন ভিসা বন্ড নীতি স্থায়ী

ভিসা পেতে দিতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়িতে চিন্তায় পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও অর্থনীতি ডেস্ক

১ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ভিসা ওভারস্টে (ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদের পর অতিরিক্ত সময় বেআইনিভাবে অবস্থান) রোধে প্রবর্তিত ‘ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম’ (Visa Bond Program) স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নিয়মে নির্বাচিত নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য বি১ (ব্যবসা) ও বি২ (পর্যটন) ক্যাটাগরির ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিমালার প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০টি দেশের ভ্রমণপিপাসু, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদের ওপর সরাসরি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য: ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনি অবস্থান বা 'ওভারস্টে' ঠেকানো।

  • বন্ডের পরিমাণ: প্রতি আবেদনকারীর জন্য $৫,০০০, $১০,০০০ বা $২০,০০০ ডলার (আবেদনের ধরণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে)।

  • প্রভাবিত ক্যাটাগরি: নন-ইমিগ্র্যান্ট B1 (Business) এবং B2 (Tourism/Medical) ভিসা।

  • বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: ভিসা প্রসেসিং আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হওয়া; বৈধ পর্যটক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আমেরিকা ভ্রমণের প্রবণতা হ্রাস পাওয়া।

ভিসা বন্ড কাঠামোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ইউএস ভিসা বন্ড প্রসেস এক নজরে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • আওতাভুক্ত ক্যাটাগরি  : B1/B2 (ব্যবসা, ভ্রমণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসা)       │
│ • জামানতের আর্থিক মূল্য: ৫,০০০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত         │
│ • ফেরতের শর্তাবলী     : নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে বন্ড ফেরত।│
│ • বাজেয়াপ্তির শর্ত    : ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করলে বা শর্ত ভাঙলে।  │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

কেন এই কড়াকড়ি এবং বাংলাদেশের ওপর এর অভিঘাত

অভিভাষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, জামানত নির্ধারণের এই সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য বড় ধরণের প্রশাসনিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।

  • উচ্চ আর্থিক বাধা: বাংলাদেশের মতো বিকাশমান অর্থনীতির দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার বা উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য ২০,০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা+) জামানত হিসেবে জমা রাখা অত্যন্ত কঠিন।

  • ব্যবসা ও বিনিয়োগে মন্দা: বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য মেলা, সম্মেলন বা বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যাতায়াত ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাবে।

  • জটিল স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া: ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আমেরিকান কনসুলার অফিসারদের বিবেচনাধীন ক্ষমতার কারণে সাধারণ আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বা বাড়তি পর্যালোচনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

যদিও ভিসা বন্ডের তালিকায় মূলত আফ্রিকা ও এশিয়ার উচ্চ ওভারস্টে হার বিশিষ্ট দেশগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলার নীতি কাঠামোর এই পরিবর্তন অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্যও সতর্কবার্তা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের উচ্চ ফি ও কঠিন শর্ত শেষ পর্যন্ত পর্যটন খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সংযোগকে কিছুটা হলেও ধীরগতির করে তুলতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency