প্রবাস ও জীবনধারা ডায়েরি
২ আগস্ট, ২০২৬
“মানুষ বদলায়, দেশ বদলায়, আল্লাহর ঘর বদলায় না। অজু করে মসজিদের কার্পেটে দাঁড়াতেই মনে হলো, সময় কোথাও থেমে ছিল। শুধু আমরা একটু বয়স্ক হয়েছি।”
২০১৪ সালের ঈদের সেই মুখরিত সকাল। দেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সেন্ট্রাল মসজিদের (Glasgow Central Mosque) বিশাল জামাতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়া—আশরাফ, রানা, শোভন, সাগর ও রুবেলদের সাথে কাটানো সেই দিনটি আজও যেন স্মৃতির পাতায় একদম সজীব।
ঠিক ১২ বছর পর, আবার সেই চেনা চত্বরে ফিরে আসা। এবার ঈদের দিন নয়, এক শান্ত জুমার দুপুরে। সঙ্গে সেই পুরনো সহচর আশরাফ এবং যুক্ত হয়েছেন ড. সাইফ। সময়ের পরিক্রমায় জীবনের গল্প বদলেছে, চেহারায় বয়সের ছাপ পড়েছে, কিন্তু গ্লাসগোর লাল ইটের এই প্রাঙ্গণটি ঠিক আগের মতোই এক আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মানচিত্র ও অবস্থান: স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের দক্ষিণ তীরে, ক্লাইড নদীর তীরে লাল বেলেপাথরের আদলে নির্মিত।
ঐতিহাসিক সূচনা: ১৯৩৩ সালে 'জামিয়াত ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন' গঠন এবং ১৯৪৪ সালে অক্সফোর্ড স্ট্রিটে স্কটল্যান্ডের প্রথম অস্থায়ী মসজিদ প্রতিষ্ঠা।
বর্তমান রূপ: স্থানীয় সম্প্রদায়ের অর্থায়নে ১৯৭৯ সালে কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৪ সালের ১৮ মে ৩০ লাখ পাউন্ড খরচে ৪ একর জায়গাজুড়ে উদ্বোধন করা হয়।
স্থাপত্য গৌরব: ইসলামিক স্থাপত্য এবং স্কটিশ ভিক্টোরিয়ান রীতির এক অপরূপ সমন্বয়, যা হিস্টোরিক এনভায়রনমেন্ট স্কটল্যান্ড কর্তৃক ‘ক্যাটাগরি–এ’ (সর্বোচ্চ মর্যাদা) প্রাপ্ত।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা শ্রমজীবী অভিবাসীরা গ্লাসগোর 'গর্বালস' এলাকায় বসতি স্থাপন শুরু করেন। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে একটি স্থায়ী ইবাদতখানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেখান থেকেই মূলত জন্ম নেয় গ্লাসগো সেন্ট্রাল মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন।
গ্লাসগো সেন্ট্রাল মসজিদ: এক নজরে ইতিহাস ও গঠন
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • ১৯৪৪ : অক্সফোর্ড স্ট্রিটে স্কটল্যান্ডের প্রথম অস্থায়ী মসজিদ। │
│ • ১৯৭৯ : কমিউনিটির নিজস্ব অর্থায়নে বর্তমান ভবনের নির্মাণকাজ শুরু। │
│ • ১৯৮৪ : আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ একর জমিতে লাল টেরাকোটায় তৈরি বর্তমান মসজিদের সূচনা।│
│ • স্বীকৃতি: ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অনন্য স্থাপত্যের জন্য 'Category-A' তালিকাভুক্ত। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। ইসলামি ঐতিহ্যের গম্বুজ, খিলান ও জটিল আরবেস্ক নকশার সঙ্গে গ্লাসগোর ঐতিহ্যবাহী লাল বেলেপাথরের (Red Sandstone) রং মিলিয়ে টেরাকোটা ইটের ব্যবহার করা হয়েছে।
জুমার আজানের সময় যখন পাকিস্তানি, বাংলাদেশি, ভারতীয়, আরব, আফ্রিকান, সোমালি কিংবা তুর্কি প্রবাসীরা পাশাপাশি কাতারে দাঁড়ান, তখন সব ভিন্নতা মুছে গিয়ে তৈরি হয় পরম এক ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |