স্থানীয় সংবাদ ও জনদুর্ভোগ
৮ আগস্ট, ২০২৬
টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় একই থাকলেও অনেক গ্রাহকের বিল এসেছে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে চার গুণ বেশি। মিটার না দেখে মনগড়া বিল তৈরি, ঘুষ বাণিজ্য এবং টার্গেটের নামে অতিরিক্ত ইউনিট চাপিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
ভূতুড়ে বিলের দৌরাত্ম্য: টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহার না করা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
গ্রাহকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ:
বাঘিল ইউনিয়নের আবু হানিফের বাড়িতে স্বাভাবিক বিল সাড়ে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা আসলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বেড়াডোমা এলাকার একেএম নজরুল ইসলাম ১ হাজার ২৯২ ইউনিট বেশি পরিশোধ করার পরও অতিরিক্ত বিলের খপ্পরে পড়েছেন।
মিটার রিডারদের চাঞ্চল্যকর তথ্য: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাস্টাররোল মিটার রিডার জানিয়েছেন, তাদের ওপর নির্দিষ্ট বিলের ‘টার্গেট’ থাকে এবং এই অতিরিক্ত বিলের টাকার ভাগ ঊর্ধ্বতন থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই পান।
বিদ্যুৎ অফিসের বক্তব্য: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান দাবি করেছেন, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডাররা বাড়িতে এসে মিটার না দেখে নিজেদের ইচ্ছেমতো বিল তৈরি করেন। অনেক সময় মিটার রিডাররা কৌশলে ঘুষ দাবি করেন এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তী মাসগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিল বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদ ও আরেক গ্রাহক জাহিদ জানান, টাঙ্গাইলের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক আজ এই ‘ভূতুড়ে বিল’ বা অতিরিক্ত খরচের শিকার। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভূতুড়ে বিল সংকট:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • মূল সমস্যা : ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল।│
│ • গ্রাহক দুর্ভোগ : ৫০০ টাকার বিল আসছে প্রায় ২ হাজার টাকা; মিটারের সঙ্গে মিল নেই।│
│ • নেপথ্যের কারণ : মিটার না দেখে মনগড়া বিল তৈরি এবং মাসোয়ারার টার্গেট ও দুর্নীতি।│
│ • প্রতিকারহীনতা : বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সমাধান। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, বরং মিটার রিডার ও সংশ্লিষ্ট অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর নজরদারি না বাড়লে এই জনদুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণ নেই।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |