জাতীয় সংবাদ
১১ আগস্ট, ২০২৬
২০ জুলাইয়ের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। যেসব টেলিভিশন চ্যানেল ছাত্রদের পক্ষে বা সংঘাতের চিত্র প্রচার করবে, সেগুলোকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ (Enemy of the State) ঘোষণা করে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিকালে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন এই চাঞ্চল্যকর মোবাইল ফোনালাপের অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেন।
ট্রাইব্যুনালে অডিও উপস্থাপন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের মধ্যকার ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়।
গণমাধ্যমকে হুমকি: ফোনালাপে আরাফাতকে বলতে শোনা যায়, যদি কোনো টিভি চ্যানেল সংঘাত বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ দেখায়, তবে তাদের ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করে সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরাসরি হস্তক্ষেপ: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কনস্ট্যান্টলি টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার মনিটর করে বিনা অনুমতিতে তাৎক্ষণিকভাবে চ্যানেল বন্ধের ঢালাও ক্ষমতা দিয়ে রাখার কথা জানান আরাফাত।
ন্যারেটিভ তৈরির কৌশল: কোটা আন্দোলনকারী ছাত্র এবং জামায়াত-বিএনপির ‘তৃতীয় পক্ষ’ বা সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে আন্দোলনকে বিভক্ত করার একটি রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
মামলার আসামিরা: ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও এই মামলায় বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ আসামি হিসেবে রয়েছেন এবং তারা সবাই পলাতক।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, ওবায়দুল কাদের তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন সেদিন কোনো সংঘাতের খবর প্রচার করা না হয়। জবাবে আরাফাত জানান যে তিনি ইতিমধ্যে মিডিয়াগুলোকে হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
আরাফাত কাদেরকে বলেন, "আজকেও ওদের বলছি যে, আজকে যদি কোনো ক্ল্যাশের বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অব দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।" এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি মনিটরিং করে কোনো পারমিশন ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে চ্যানেল অফ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথাও তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।
কথোপকথনের অন্য অংশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে আরাফাত জানান যে তারা আন্দোলনকে দুই ভাগে ভাগ করে—একপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অন্যপক্ষ জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসী—এমন একটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বা ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
🎙️ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কাদের-আরাফাতের ফোনালাপের মূল বিষয়সমূহ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ : সংঘাতের দৃশ্য দেখালেই চ্যানেল স্থায়ীভাবে বন্ধের হুমকি।│
│ • স্যাটেলাইট মনিটর : সরাসরি সম্প্রচার পর্যবেক্ষণ করে বিনা নোটিশে চ্যানেল অফ।│
│ • রাজনৈতিক কৌশল : ছাত্র আন্দোলনকে ‘জামায়াত-বিএনপির নাশকতা’ হিসেবে প্রচার।│
│ • ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ চতুর্থ দিনের যুক্তি।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
এই ফোনালাপটি জুলাই অভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় তৎকালীন সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের অন্যতম বড় আইনি প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |