আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২০ আগস্ট তার বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে আন্দোলনকারীরা বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাদের অভিযোগের সমাধান না করলে ঝাড়খণ্ডের জেএমএম নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে কংগ্রেসকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) স্বাধীনতা দিবসে রাঁচিতে জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা যাত্রা থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনের ২২তম দিনে হাজারো ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থী এতে অংশ নেন, যাদের মধ্যে হুইলচেয়ারে থাকা দুজন চাকরিপ্রার্থীও অনশনে রয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের সংগঠন জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসোয়ান জানান, ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে। তাদের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও কংগ্রেসের জোট সরকার তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া আগামী রোববার ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলায় হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
যেসব নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে অথবা কেন্দ্রীয় কোনো তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাতে হবে।
বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের কয়েকটি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, বিষয়টি শুধু কয়েকটি পরীক্ষায় অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং হাজারো তরুণের ভবিষ্যৎ জড়িত।
ঝাড়খণ্ড নিয়োগ আন্দোলন একনজরে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • আন্দোলনের কারণ : নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। │
│ • প্রধান দাবি : মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। │
│ • পরবর্তী কর্মসূচি : আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও। │
│ • সরকারের প্রতিক্রিয়া: তদন্ত ও ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের আশ্বাস। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন স্বীকার করেন যে, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের কারণে এক প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা কমেছে।
তিনি বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবেন, তারা যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী করা হবে না বলেও জানান তিনি। হেমন্ত সোরেন আরও উল্লেখ করেন যে, শুধু অনিয়মে জড়িতদের শনাক্ত করলেই হবে না; ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষায় কারচুপি বন্ধ করতে পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তবে সরকারের এসব আশ্বাসে এখনো সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, নির্দিষ্ট পরীক্ষাগুলো নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং স্বাধীন তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। ফলস্বরূপ, আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত না করলে এ ধরনের আন্দোলন দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝাড়খণ্ড সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করে পরীক্ষার্থীদের আস্থায় ফিরিয়ে আনা, অন্যথায় এই রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
প্রধান তথ্যসূত্র: ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় সংবাদ ও সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন।
আন্দোলনের তথ্য: জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চের ঘোষণা এবং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |