আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীর পানির বোতলে কৌশলে মূত্র মিশিয়ে পান করানোর মতো এক ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের ‘১০ টাকার চকলেট খেয়ে নেওয়ার’ পরামর্শ দেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও প্রধান শিক্ষকের ঔদাসীন্য ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার অ্যারন উন্নয়ন ব্লকের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীর অভিযোগ, তাদেরই এক সহপাঠী (পাশাপাশি সন্দেহভাজন আরও কয়েকজন) কৌশলে তাদের পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে দেয় এবং তারা তা পান করে।
ঘটনাটি বুঝতে পেরে ছাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলটির প্রধান শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু সুবিচার পাওয়ার বদলে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে পান থেকে চুন খসানোর মতো উপহাসমূলক আচরণ ও মন্তব্য শুনতে হয় তাদের। তিনি ছাত্রীদের মুখের খারাপ স্বাদ দূর করার জন্য ১০ টাকার চকলেট কিনে খাওয়ার অদ্ভুত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পরামর্শ দেন।
অভিভাবকদের বিক্ষোভ ও স্কুলে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ পরদিন মঙ্গলবার (মঙ্গলবার) এই লজ্জাজনক ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যসহ শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসংবেদনশীল ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও তদন্তের নির্দেশ পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং অভিযুক্ত ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে গুনা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার কান্যাল জানান, “পানির বোতলে মূত্র মিশিয়ে পান করানোর অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছেন। ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের তলব করা হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) জারি করা হয়েছে। এই অপরাধের সঙ্গে অন্য কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, অ্যারনের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) মঞ্জুষা খাত্রী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তহশিলদার এবং ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (বিইও) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগামী দুই দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষী প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |