ইউরোপে অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহে আক্রান্ত হয়ে জার্মানিতে প্রায় ১৬ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা ‘রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট’ (আরকেআই) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উন্মোচিত হয়। গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহ ও স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মূলত বয়স্ক এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতায় ভোগা ব্যক্তিরা হৃদরোগ ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। চরম তাপমাত্রাকে স্বাস্থ্যগত জরুরি সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে এ বিষয়ে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা ও পরিসংখ্যান
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধ পেয়ে মানবদেহে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠী: মৃতদের একটি বড় অংশই ছিলেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের বয়স্ক নাগরিক।
শারীরিক জটিলতা: প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক, তীব্র পানিশূন্যতা এবং কিডনি ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।
শহরাঞ্চলে বেশি প্রভাব: বড় শহরগুলোতে অতিরিক্ত ইট-পাথরের কাঠামোর কারণে তাপমাত্রা বেশি ধরে রাখা এবং ‘হিট আইল্যান্ড’ তৈরি হওয়াকে মৃত্যুর অন্যতম কারণ ধরা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ইউরোপজুড়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এমন চরম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
| মূল দিক | প্রভাব ও প্রশাসনিক মূল্যায়ন |
| স্বাস্থ্য ব্যবস্থা | আশঙ্কাজনক হারে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ভর্তির চাপ বৃদ্ধি। |
| পরিকাঠামো সংস্কার | আবাসন ও হাসপাতালগুলোতে শীতলীকরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের তাগিদ। |
| সচেতনতা কর্মসূচি | তাপপ্রবাহ চলাকালে বয়স্ক ও অসুস্থদের সুরক্ষায় নতুন গাইডলাইন প্রকাশ। |
কী পয়েন্ট: স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ
রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন আর সাময়িক কোনো বিষয় নয়, বরং এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এর বিরুদ্ধে জরুরি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা না গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জার্মান সরকার ইতোমধ্যে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা এবং সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসকরা চরম তাপমাত্রার সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |