| বঙ্গাব্দ

ডলারের আধিপত্য কমাতে ব্রিকসের বিকল্প অর্থ ব্যবস্থা, কড়া নজরদারি ও সতর্ক বার্তা ওয়াশিংটনের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-09-2026 ইং
  • 1710 বার পঠিত
ডলারের আধিপত্য কমাতে ব্রিকসের বিকল্প অর্থ ব্যবস্থা, কড়া নজরদারি ও সতর্ক বার্তা ওয়াশিংটনের
ছবির ক্যাপশন: ডলারের আধিপত্য কমাতে ব্রিকসের বিকল্প অর্থ ব্যবস্থা,

ডলারের আধিপত্য কমাতে ব্রিকসের বিকল্প অর্থ ব্যবস্থা, কড়া নজরদারি ও সতর্ক বার্তা ওয়াশিংটনের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের (USD) বহুল প্রচলিত একক আধিপত্য ও কর্তৃত্ব চ্যালেন্জ করতে নতুন অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করেছে উদীয়মান অর্থনীতির পরাশক্তি জোট ‘ব্রিকস’ (BRICS)। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্পাদন, বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নতুন ‘ডিজিটাল ব্রিকস কারেন্সি’ তৈরির যে যৌথ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া হুশিয়ারি ও সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটন।

ব্রিকসের ‘ডি-ডলারাইজেশন’ ও বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা

ডলারের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমানোর এই প্রক্রিয়া ‘ডি-ডলারাইজেশন’ (De-Dollarization) নামে পরিচিত। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুইফট (SWIFT) ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজস্ব পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ব্রিকস পে’ (BRICS Pay) চালু এবং নিজেদের দেশীয় মুদ্রায় লেনদেন বহুগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ব্রিকসের প্রভাবশালী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে এড়াতে এবং ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার একচ্ছত্র প্রভাব কমাতে নিজস্ব অর্থ কাঠামোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। এতে যুক্ত হয়েছে ইরান, ব্রাজিল ও ভারতসহ জোটের অন্যান্য শরিক দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ ও ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা

ব্রিকসের এই নতুন অর্থনৈতিক মেরুকরণকে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার নেতৃত্ব ও প্রভাবের জন্য সরাসরি হুমকি বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন অর্থ দফতর ও হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা মূলত ডলারের ওপরই নির্ভরশীল। ডলারকে দুর্বল করার যে কোনো সংগঠিত চেষ্টা বৈশ্বিক বাণিজ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটন হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, যে সব দেশ বা সংস্থা মার্কিন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে এড়িয়ে অবৈধ বা বিকল্প উপায়ে আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার চেষ্টা করবে, তাদের ওপর মাধ্যমিক মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা (Secondary Sanctions) ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

ডি-ডলারাইজেশন উদ্যোগের মূল দিকসমূহ

অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ব্রিকস পে (BRICS Pay): পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত ‘সুইফট’ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন নেটওয়ার্ক।

  • স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য: বাণিজ্য কার্যক্রমে ডলার ও ইউরোর বদলে রুপি, ইউয়ান, রুবেল ও রিয়াল ব্যবহার করা।

  • নতুন উন্নয়ন ব্যাংক (NDB): আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়নমূলক ঋণের পরিধি বাড়ানো।

এক নজরে ব্রিকস বনাম মার্কিন ডলার বিতর্ক

বিষয়বিবরণ
ব্রিকসের পদক্ষেপআন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার হ্রাস ও বিকল্প ব্রিকস অর্থ পেমেন্ট ব্যবস্থা তৈরি
মূল অনুঘটক দেশচীন, রাশিয়া, ইরান ও ব্রাজিল
ওয়াশিংটনের অবস্থানবিশ্ব বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে কড়া নজরদারি ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার হুশিয়ারি
সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাববৈশ্বিক বাণিজ্য মুদ্রার বহুমুখীকরণ ও মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাব হ্রাস

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ

বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের (GDP) এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করা ব্রিকস জোটের এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এক নতুন দ্বিমেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ডলার রাতারাতি তার আন্তর্জাতিক স্থান হারাবে না ঠিকই, তবে ব্রিকসের এই সমন্বিত উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের একক রাজত্ব ও আমেরিকার আর্থিক একচ্ছত্র ক্ষমতাকে অনেকটাই গুটিয়ে আনতে বাধ্য করবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

News

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency