উপকূল ও চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চালু হলো ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’
দেশের দুর্গম উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’। গতকাল সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল প্রাঙ্গণে এই ভাসমান হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী যাতে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
‘স্বাস্থ্য তরী’র চিকিৎসা সুবিধা ও সক্ষমতা
আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রযুক্তি সংবলিত এই জলযানে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ: বহির্বিভাগ পরিষেবার মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হবে।
আধুনিক ল্যাব ও প্রসূতি সেবা: সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং প্রসূতি ও ধাত্রীবিদ্যার জন্য ডেডিকেটেড ইউনিট রাখা হয়েছে।
জরুরি অস্ত্রোপচার কক্ষ: ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক অপারেশন থিয়েটার রয়েছে।
এক নজরে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’
উদ্যোক্তা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এনজিও অংশীদার
মূল উদ্দেশ্য: নদীবেষ্টিত, বিচ্ছিন্ন চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দান
চিকিৎসা ক্ষমতা: দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ জন রোগীর চিকিৎসা ও প্রাথমিক পরীক্ষা
কভারেজ এলাকা: দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা এবং যমুনা ও মেঘনা অববাহিকার দুর্গম চরসমূহ
সাপ্তাহিক রুটিন ও রুট পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্ধারিত রুট অনুযায়ী ভোলা, পটুখালী, বরগুনা, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোতে পর্যায়ক্রমে অবস্থান করবে। প্রতিটি চরে নির্দিষ্ট দিন অবস্থান করে স্থানীয়দের চিকিৎসা প্রদান ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেবা নিশ্চিত করবেন এর চিকিৎসক দল।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাইলফলক
প্রান্তিক চরাঞ্চলের গর্ভবতী নারী, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই উদ্যোগ চরাঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সার্বিক জাতীয় স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর অবদান রাখবে।