| বঙ্গাব্দ

শাহজালালের নতুন এটিসি টাওয়ারে রাজস্বে ঊর্ধ্বগতি, তিন মাসে আয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-09-2026 ইং
  • 6865 বার পঠিত
শাহজালালের নতুন এটিসি টাওয়ারে রাজস্বে ঊর্ধ্বগতি, তিন মাসে আয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা
ছবির ক্যাপশন: শাহজালালের নতুন এটিসি টাওয়ারে রাজস্বে ঊর্ধ্বগতি,

শাহজালাল বিমানবন্দরের নতুন এটিসি টাওয়ারে আকাশসীমা সুরক্ষা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার। রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থার এই আধুনিকায়নের ফলে একদিকে যেমন দেশের আকাশসীমার সার্বক্ষণিক সুরক্ষা ও নজরদারি নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি ওভার ফ্লাইং চার্জ (ফ্লাইং ওভার চার্জ) বা আকাশসীমা ব্যবহারের ফি আদায়ের কার্যক্রমে এসেছে ব্যাপক গতিশীলতা ও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব প্রবৃদ্ধি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন এটিসি টাওয়ার ও অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেমের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তা পরীক্ষামূলক ও নিয়মিত কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তি চালুর পর থেকেই বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজগুলো থেকে আদায় করা ওভার ফ্লাইং চার্জে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে ওভার ফ্লাইং চার্জ বাবদ মোট ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। পরবর্তী বছর ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। আর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এই খাতের আয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে কেবল ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওভার ফ্লাইং চার্জ থেকে প্রায় ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা আদায় হয়েছে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারির তুলনায় প্রায় ২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বেশি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতীতে ব্যবহৃত রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা তুলনামূলক পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার হওয়ায় বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন আকাশসীমার একটি বড় অংশ কার্যকর নজরদারির বাইরে থাকত। ফলে দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলেও কিছু উড়োজাহাজের কাছ থেকে সঠিক ফি আদায় করা সম্ভব হতো না। তবে বর্তমানে এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার (৮০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত কভারেজ) এবং মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডার (২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত কভারেজ) চালুর ফলে আকাশসীমার পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে রাডার ফাঁকি দিয়ে কোনো ফ্লাইটের পক্ষে বাংলাদেশের আকাশ ব্যবহার করার আর কোনো সুযোগ নেই।

ফ্রান্সের থ্যালেস কোম্পানির সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এই এটিএম-সিএনএস সিস্টেম প্রকল্পে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন করেছে বেবিচক। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প দেশের এভিয়েশন খাতে এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপন করেছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমার পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকছে না।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency