প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ইসলাম মানুষকে সবসময় একে অপরের দোষত্রুটি গোপন রাখতে এবং পারস্পরিক গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করে।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে অন্যায় ও দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ:
খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ কিংবা সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধ কোনো সাধারণ ব্যক্তিগত গোপন পাপের পর্যায়ে পড়ে না।
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَتَقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
অর্থ: ‘নেককাজ ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২)
কাজেই কেউ খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় না এনে আড়াল করা মূলত পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতার সমান।
কোনো অপরাধের সত্য ঘটনা বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নিজের জানা থাকার পরও কেবল কোনো অপরাধীকে রক্ষা করার জন্য তা চেপে যাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে মারাত্মক অন্যায়।
وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ
অর্থ: ‘আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না;
যে ব্যক্তি তা গোপন করে, নিশ্চিতভাবেই তার অন্তর পাপী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৩) সুতরাং আত্মীয় বা পরিচিত কেউ অপরাধ করলেও তার বিরুদ্ধে সত্য সাক্ষ্য গোপন করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।
ব্যবসায়ে জালিয়াতি, পণ্যের দোষ বা ভেজাল গোপন করা, ঘুষ গ্রহণ, মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ কিংবা আমানতের খিয়ানত—এগুলো কেবল ব্যক্তিগত পাপ নয়;
مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي
অর্থ: ‘যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০২)
বিশেষ করে কেউ যখন কোনো প্রতারকের সঙ্গে লেনদেন করতে উদ্যত হয় এবং আপনার তার প্রতারণার ইতিহাস জানা থাকে, তখন তাকে সময়মতো সতর্ক করা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
কেউ যখন বিয়ে, অংশীদারি ব্যবসা কিংবা কোনো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে আপনার কাছে পরামর্শ চায়, তখন তার সিদ্ধান্তকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে—এমন কোনো গুরুতর তথ্য বা ত্রুটি গোপন করা স্পষ্ট প্রতারণা।
এর সুন্দর ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত মেলে হজরত ফাতেমা বিনতে কায়েস (রা.)-এর একটি ঘটনায়।
أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ، وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ
অর্থ: ‘আবু জাহমের অবস্থা হলো—সে তার কাঁধ থেকে (মারধর করার উদ্দেশ্যে) লাঠি নামায় না।
আর মুয়াবিয়া হলো নিঃস্ব, তার কোনো সম্পদ নেই।’ (সহিহ মুসলিম: ১৪৮০) এখানে ‘লাঠি কাঁধ থেকে না নামানো’ বলতে আবু জাহমের কঠোর স্বভাব ও স্ত্রীকে মারধর করার প্রবণতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সুতরাং বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হলে কোনো ব্যক্তির এমন গুরুতর দোষ গোপন করা জায়েজ নয়, যা অন্য কারও জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর গোপন পরিকল্পনা যদি সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পদ কিংবা রাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলে, তবে তা গোপন রাখা আরও বড় সর্বনাশের কারণ হতে পারে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |