| বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করে বিপাকে ব্রিটিশ নাগরিক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-10-2026 ইং
  • 6193 বার পঠিত
একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করে বিপাকে ব্রিটিশ নাগরিক
ছবির ক্যাপশন: একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করে

একসঙ্গে ৫ সরকারি চাকরি, সপ্তাহে ১৮৩ ঘণ্টা কাজ! সাজতে মুখে মাখতেন সাদা মেকআপ: যুক্তরাজ্যে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির বিচার

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

একসঙ্গে একটি বা দুটি নয়, রীতিমতো পাঁচ-পাঁচটি সরকারি চাকরি করার অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে ৫৫ বছর বয়সি এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে। চাকরির বিষয়টি গোপন রাখতে অফিসে দীর্ঘ অসুস্থতার ছুটি নেওয়া, অনলাইন মিটিংয়ে ক্যামেরা বন্ধ রাখা, এমনকি নিজেকে মারাত্মক অসুস্থ দেখাতে মুখে সাদা মেকআপ লাগানোর মতো অদ্ভুত সব জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আদালতে তাঁর বিচার চলছে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার নায়ক কাশিম চৌধুরী, যিনি পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের স্থায়ী বাসিন্দা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

৩ বছরে আয় সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ড, এক সপ্তাহে ১৬৮ ঘণ্টার জায়গায় ১৮৩ ঘণ্টার ডিউটি!

আদালতে পেশ করা অভিযোগপত্রে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সাড়ে তিন বছর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে জালিয়াতি করে চাকরি করে গেছেন কাশিম চৌধুরী। এর মাধ্যমে তিনি বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি) অবৈধ আয় করেন।

তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানে একই সঙ্গে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন: ১. যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (Home Office) ২. পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর (Defra) ৩. যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (UKHSA) ৪. স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা দপ্তরসহ আরও একটি সরকারি সংস্থা।

আদালতের দেওয়া চমকপ্রদ তথ্যে দেখা যায়, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তাঁর সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা নির্ধারিত দাঁড়িয়েছিল ১৮৩ ঘণ্টা! অথচ প্রকৃতিগতভাবে এক সপ্তাহে মোট সময় থাকে ১৬৮ ঘণ্টা। অর্থাৎ সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে একটানা কাজ করলেও তাঁর পক্ষে নির্ধারিত সমস্ত কর্মঘণ্টা পূরণ করা গাণিতিকভাবেই ছিল সম্পূর্ণ অসম্ভব।

নিজেকে ‘অসুস্থ’ দেখাতে মুখে সাদা মেকআপের অদ্ভুত নাটক

লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মোট ৯টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। তবে তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আদালতের শুনানিতে তাঁর জালিয়াতির অভিনব সব কৌশল ও ঘটনা সামনে এসেছে:

  • অসুস্থতার অজুহাত ও বাহানা: এক চাকরির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরাতে এবং সময় সামলাতে প্রায়শই মিথ্যে ‘অসুস্থতার ছুটি’ (Sick Leave) নিতেন কাশিম।

  • অনলাইন মিটিং ফাকি: একাধিক চাকরির কাজ একসাথে সামলাতে অনলাইন মিটিংয়ের সময় তিনি ল্যাপটপে যান্ত্রিক ক্রুটি বা নেটওয়ার্ক সমস্যার অজুহাত দিতেন অথবা নিয়মিত ক্যামেরা বন্ধ রাখতেন।

  • সাদা মেকআপের ফাঁকি: ইউকেএইচএসএ (UKHSA)-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে মাইক্রোসফট টিমসে অসুস্থতাজনিত ছুটির অনলাইন বৈঠকের সময় নিজেকে মারাত্মক অসুস্থ ও ফ্যাকাশে প্রমাণ করতে তিনি মুখে মেকআপের মাধ্যমে সাদা রং মেখে অংশ নেন! তবে মজার বিষয় হলো, মিটিং চলাকালীন মেকআপ ঘামে ধুয়ে উঠলে এবং তাঁর গলা অংশটি রঙিন থেকে যাওয়ায় কর্মকর্তার কাছে রহস্যটি ফাঁস হয়ে যায়।

  • ভুল ইমেইলে ধরা খাওয়া: একবার ভুলবশত এক প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল অনলাইন মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার সময় তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল আইডি ব্যবহার করে ঢোকেন, যা থেকে সহকর্মীদের মনে প্রথম সন্দেহের দানা বাঁধে।

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তাঁর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়কেরা জানিয়েছেন, অন্য কোথাও কাজ করার তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন কাশিম এবং তাঁর কাজের মান ছিল চূড়ান্ত রকমের ‘অকার্যকর ও দুর্বল’।

বর্তমানে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের বিচার কাজ চলছে এবং আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency