| বঙ্গাব্দ

ভোলার তজুমদ্দিনে অস্ত্রসহ পাঁচজন আটক, সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনী সন্দেহভাজন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-03-2025 ইং
  • 4705105 বার পঠিত
ভোলার তজুমদ্দিনে অস্ত্রসহ পাঁচজন আটক, সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনী সন্দেহভাজন
ছবির ক্যাপশন: ভোলার তজুমদ্দিনে অস্ত্রসহ পাঁচজন আটক, সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনী সন্দেহভাজন

ভোলার তজুমদ্দিনে অস্ত্রসহ পাঁচজন আটক, সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত

ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর মোজা‌ম্মেল থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড কার্তুজ এবং চারটি রকেট ফ্লেয়ারসহ পাঁচজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে খেয়াঘাট এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

আটককৃতদের মধ্যে হারুন দফাদার (৫০), মো. রুবেল (২৬), মো. কবির মাঝি (৪৭), মো. ইউনুস (৩৬) এবং ফেরদৌস ওরফে হেজু (৪০) নামের পাঁচজন রয়েছেন। তারা সবাই ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চর মোজা‌ম্মেল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

কোস্টগার্ডের অভিযানের বিস্তারিত:

কোস্টগার্ড জানায়, গত বুধবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা তজুমদ্দিন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর মোজা‌ম্মেল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটককৃতরা সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড কার্তুজ এবং চারটি রকেট ফ্লেয়ার, যা একটি বড় ধরনের সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, সালাউদ্দিন বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রের সাহায্যে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।

সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনী এবং তাদের কার্যক্রম:

সালাউদ্দিন ডাকাত বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ভোলা এবং আশেপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। বাহিনীর সদস্যরা মূলত চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, এবং ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তাদের অপতৎপরতা থামাতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও তারা একাধিকবার পালিয়ে যায়।

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তজুমদ্দিন থানায় স্থানান্তর করা হবে। তারা বর্তমানে কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কোস্টগার্ডের ভূমিকা এবং জাতীয় নিরাপত্তা:

কোস্টগার্ডের অপারেশন ডিপার্টমেন্টের স্টাফ অফিসার রিফাত আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘এই ধরনের অভিযান আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের উদ্দেশ্য শুধু এলাকায় অপরাধীদের ধরার নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যারা অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ধরনের অভিযান সমগ্র দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অপরিহার্য। জননিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস জরুরি।’’

এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া:

অভিযান শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা কোস্টগার্ডের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। তারা বলছেন, এলাকাটি আগে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জর্জরিত ছিল, কিন্তু এখন কোস্টগার্ডের কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ায় তারা নিরাপদ অনুভব করছেন। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান আরও চলতে থাকবে এবং এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

এছাড়া, এলাকার রাজনৈতিক নেতারা এবং স্থানীয় প্রশাসনও কোস্টগার্ডের এই অভিযানে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তার জন্য সকল প্রয়াস চালানো হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ:

কোস্টগার্ড জানায়, তাদের তল্লাশি ও অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আরও বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালানো হতে পারে। এছাড়া, আটককৃতদের ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্তের জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করতে বিশেষ অপারেশন চালানো হবে।

সালাউদ্দিন বাহিনী ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিহত করতে তৎপর রয়েছে এবং এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency