রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্য: বিএনপি এখনও ইউনূস সরকারের প্রতি আস্থা রাখে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই ইউনিয়নে এক মানবিক সহায়তা প্রদানকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমরা এখনও ইউনূস সরকারের প্রতি আস্থা রাখি এবং আস্থার জায়গাটি দুর্বল করার দায়িত্ব কোনোভাবেই অন্তর্বর্তী সরকারের নয়।"
রিজভী বিএনপি সরকারের বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি জনগণের উদ্বেগ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের প্রভাব তুলে ধরেছে।
রিজভী পটুয়াখালীতে অসহায় এক বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবনযাপনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তিনি তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই মানবিক পদক্ষেপের বিষয়ে জানান। তার মতে, দেশের জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা এবং তাদের সাহায্য করা একজন নেতা হিসেবে তার দায়িত্ব।
এ সময় সাংবাদিকরা রিজভীকে প্রশ্ন করেন, "বিএনপি কীভাবে সরকারের প্রতি আস্থা রাখে?" এর উত্তরে তিনি বলেন, "আমরা এখনও ইউনূস সরকারের প্রতি আস্থা রাখি, তবে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো, জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ না করা।" তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিএনপি এখনও দেশের শাসন ব্যবস্থায় তাদের আস্থা বজায় রাখছে এবং তারা বিশ্বাস করেন যে, ইউনূস সরকার দেশের স্বার্থে ভালো কাজ করতে পারে, তবে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী একাধিক চুক্তি করেছে। বিশেষ করে আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “ঝাড়খণ্ডে আদানির উৎপাদন করা বিদ্যুতের ৩৪ শতাংশ কেন বাংলাদেশকে কিনতে হবে? এটি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার সামিল।” তিনি এই চুক্তির কারণে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
রিজভী আরও বলেন, "এমন ধরনের চুক্তি দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এটি সরকারের উচিত পুনরায় পর্যালোচনা করা।"
রিজভী বন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলো বিদেশি অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারতো।" তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে জনগণের নজর আকর্ষণ করেন। রিজভী দাবি করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থাপনাগুলো বিদেশি অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।
রিজভী অতীত সরকারের বিভিন্ন চুক্তি, সিদ্ধান্ত এবং দমন-পীড়নের কারণে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, "মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, এবং এই কারণেই জনগণ বর্তমান সরকারকে পরিবর্তন করতে চায়।" তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের অসন্তুষ্টির কথাও তুলে ধরেন।
রুহুল কবির রিজভী তার বক্তৃতায় বিএনপির অবস্থান এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি একদিকে ইউনূস সরকারের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন, অন্যদিকে সরকারের গৃহীত চুক্তি এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষত, দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি এবং বিদেশি অপারেটরদের হস্তক্ষেপ নিয়ে তার তীব্র সমালোচনা দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রিজভীর এই বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এটি দেশের জনগণের জন্য তাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |