| বঙ্গাব্দ

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-09-2026 ইং
  • 4721 বার পঠিত
কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে
ছবির ক্যাপশন: যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

  

আখিরাতের সফলতার সঙ্গী: মুমিনের জীবনে আদর্শ জীবনসঙ্গীর প্রত্যাশা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

পার্থিব প্রয়োজন কিংবা ক্ষণস্থায়ী প্রাপ্তির মোহ ছাপিয়ে একজন মুমিনের জীবনে পরম কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি হলো এমন একজন জীবনসঙ্গী, যিনি কেবল দুনিয়ার সুখ-দুঃখের অংশীদারই নন, বরং আখিরাতের পথেও একে অপরের সুহৃদ সহায়ক। যিনি হাত ধরে আল্লাহর ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ঈমানের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে দেবেন।

ফজরের স্নিগ্ধ ভোরে ইবাদতের ছোঁয়া

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ

‘তোমরা সমস্ত নামাজ ও মধ্যবর্তী নামাজের হিফাজত কর এবং আল্লাহর সামনে বিনম্রচিত্তে দাড়াও।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৩৮)

একজন মুমিনের জীবনের প্রতিটি সকাল শুরু হওয়া উচিত প্রভুর স্মরণে। প্রত্যাশা এমন একজন সঙ্গীর, যিনি ফজর ছুটে যাওয়ার উপক্রম হলে পরম মায়ায় জাগিয়ে দেবেন, ঘুমঘুম চোখে অজুর পর ভালোবাসার আস্তিনে মুখ মুছতে দেবেন এবং দিনের শুরুতে দুজনে মিলে সমস্বরে তেলাওয়াত করবেন পবিত্র কুরআনের সুমধুর বাণী—

يس ۝ وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ

‘ইয়াসিন। প্রজ্ঞাময় কুরআনের কসম।’ (সুরা ইয়াসিন)

জোহর ও আসরের মধ্যাহ্নিক সচেতনতা

জীবনের নানামুখী ব্যস্ততার ভিড়েও রবের কথা ভুলে যাওয়ার জো নেই। এমন কেউ থাকুক—যিনি জোহরের ওয়াক্ত কাজা হয়ে গেলে মিষ্টি অভিমান করবেন কিংবা শাসনমূলক ভঙ্গিতে মুচকি হাসবেন। আবার আসরের পবিত্র সময় ফেলে অন্য কোনো অনর্থক বিষয়ের প্রতি আসক্তি দেখলে যিনি স্নিগ্ধ অথচ সচেতন দৃষ্টিতে তাকাবেন, যেন অবহেলায় মুমিনের কোনো নেক আমল হাতছাড়া না হয়ে যায়।

মাগরিবের শান্ত সন্ধ্যায় জান্নাতের ফিকির

সন্ধ্যা নামার শান্তি ও প্রশান্তিতে এমন একজন সঙ্গী থাকুক—যিনি পরম যত্নে মাগরিবের জায়নামাজটি এগিয়ে দেবেন এবং নামাজ শেষে পরম মায়ায় মনে করিয়ে দেবেন সেই অন্তরের আর্তি—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের অগ্নিকুণ্ডের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২০১)

পাশাপাশি মোনাজাতে উচ্চারিত হোক সেই চিরন্তন দোয়া—

اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান-নার।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’

জীবনের অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ ও অধিক আয়ের নিষ্ফল তাগাদা না দিয়ে যিনি অন্তরে পরকালের খোদাভীতি জাগিয়ে তুলবেন এবং রিজিকের বরকতের জন্য ভালোবাসার সুরে স্মরণ করিয়ে দেবেন সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করার কথা। যে আমলে আল্লাহ দারিদ্র্য দূর করে দেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا

‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, তাকে কখনো দারিদ্র্য স্পর্শ করবে না।’ (বাইহাকি: ২২৬৯)

পরিশেষে, দুনিিয়ার প্রতিটি মুমিনের প্রার্থনা হোক এমন একজন সঙ্গী পাওয়ার, যার ছায়ায় প্রতিটি দিন শুরু হবে আল্লাহর ইবাদত দিয়ে এবং প্রতিটি রাতের সমাপ্তি ঘটবে রবের সন্তুষ্টির অন্বেষণে। যিনি হাত ধরে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency