প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
পবিত্র কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি সুখ ও শান্তিময় পরিবার গড়ে তোলার জন্য স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের প্রতি সুনির্দিষ্ট কিছু অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) এই পারস্পরিক অধিকারের কথা ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন—
أَلَا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا
‘জেনে রাখবে, নিশ্চয়ই তোমাদের নারীদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, আর তোমাদের ওপরও তোমাদের নারীদের অধিকার রয়েছে।’ (তিরমিজি: ১১৬৩, ইবনে মাজাহ: ১৮৫১)
পাশাপাশি পুরুষদের উদ্দেশে অন্য একটি হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) তাদের নারীদের প্রতি সদাচরণ ও কল্যাণকামী হওয়ার তীব্র তাগিদ দিয়ে বলেছেন—
اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا
‘সাবধান, তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও।’ (তিরমিজি: ৩০৮৭)
ইসলামী শরিয়তের মূল কাম্য হলো—স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছাকাছি থাকবেন এবং সুখে-দুঃখে একসঙ্গে বসবাস করবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে, দ্বীনি দায়িত্বে বা জীবিকার তাগিদে স্বামী দূরে কোথাও গেলে ইসলামে তার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনো জরুরি কারণ ছাড়া চার মাসের বেশি সময় স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না।
ইসলামের ইতিহাসে এ বিষয়ে একটি চমৎকার ঘটনা রয়েছে। এক রাতে খলিফা হজরত ওমর (রা.) প্রহরীর বেশে মদিনার অলিগলিতে জনগণের খোঁজখবর নেওয়ার সময় এক ঘর থেকে এক নারীর কণ্ঠে দীর্ঘ বিরহ ও কষ্টের কবিতা আবৃত্তি শুনতে পান। ওই নারী বলছিলেন যে, দীর্ঘকাল স্বামী দূরে থাকায় তিনি তাঁর নৈকট্য থেকে বঞ্চিত এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকলে একাকীত্বের এই ব্যথায় খাটের চারপাশ কেঁপে উঠত।
পরের দিন ভোরে খলিফা সেই নারীকে ডেকে পাঠান। নারীটি জানান যে তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে রয়েছেন। তখন হজরত ওমর (রা.) তাঁর কন্যা উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফসা (রা.)-এর কাছে গিয়ে জানতে চান, নারীরা তাদের স্বামী থেকে কত দিন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারে? জবাবে হজরত হাফসা (রা.) বলেন, ‘মেয়েরা তাদের স্বামী থেকে চার মাস পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারে।’ এরপর থেকেই হজরত ওমর (রা.) ঐতিহাসিক নিয়ম করেন যে, কোনো মুজাহিদ বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে চার মাসের বেশি সময় রাখা হবে না; বরং তাদের ফেরত এনে নতুন বাহিনী পাঠিয়ে দেওয়া হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ১২৫৯৪)
১. অনুমতি ও আত্মসংযম: কোনো বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজনে স্বামী যদি চার মাসের বেশি সময় দূরে থাকতে বাধ্য হন, তবে অবশ্যই তা স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই নিজেদের পবিত্রতা ও চরিত্র রক্ষা করতে পারবেন বলে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী হন, তবে তা জায়েজ হতে পারে।
২. গুনাহের আশঙ্কা: যদি দূরে থাকার কারণে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কোনো ধরনের পাপ বা গুনাহে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা জায়েজ হবে না। (নাসাঈ: ৩৪০৫, ফতোয়ায়ে শামি: ৪/৩৭৯, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৯/৪৮, আহসানুল ফতোয়া: ১/৪০০)
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |