নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০২৫
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও রক্তাক্ত সহিংসতা। ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক সাইফ আল-দিন কামেল আবদুল করিম মুসাল্লাত (বয়স: ২০-এর কোঠায়) ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন, এমন খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় রামাল্লার উত্তরে সিনজিল শহরে হামলার শিকার হন মুসাল্লাত। নিরস্ত্র অবস্থায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অন্তত আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুসাল্লাত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পা শহরের বাসিন্দা এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সাময়িকভাবে ফিলিস্তিনে এসেছিলেন।
তার কাজিন ফাতমা মোহাম্মদ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
“তিনি একেবারেই নিরস্ত্র ছিলেন, অথচ নির্মমভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
ওয়াশিংটন পোস্টও পরিবারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাই মুসাল্লাতকে আক্রমণ করে হত্যা করেছে।
এক ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও জানান, একই এলাকায় আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন,
“পশ্চিম তীরে একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবরে আমরা অবগত। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের গোপনীয়তা ও শ্রদ্ধার খাতিরে আপাতত এ বিষয়ে বিস্তারিত বলছি না।”
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নাগরিক নিহত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এখনো সংযত, যা ওয়াশিংটনের ইসরায়েল নীতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সিনজিল শহরে ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘অপ্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ‘সংঘর্ষ’ আসলে একতরফা সহিংসতা, যেখানে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা প্রায়শই নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।
২০২৩ সালের শেষদিকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে:
প্রতিশোধমূলক অভিযানে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা, পুড়িয়ে দেওয়া, খুন ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে
বহু ফিলিস্তিনি গ্রামবাসী নিজ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন
এর আগে পশ্চিম তীরে নিহত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ছিলেন—
সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ
কিশোর ওমর মোহাম্মদ রাবেয়া
তুর্কি-মার্কিন মানবাধিকারকর্মী আয়সেনুর ইজগি আয়গি
জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত ২০২৩ সালে জানায়,
“পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখল ও বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী” এবং সেগুলো “অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।”
কিন্তু ইসরায়েল এই অবস্থান মানতে নারাজ। তারা বলে, বাইবেলভিত্তিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কারণে এই অঞ্চল তাদের অধিকারভুক্ত।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজধানীর অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। মুসাল্লাতের হত্যাকাণ্ড সেই অঞ্চলজুড়ে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রকে ফের সামনে এনেছে।
একজন তরুণ, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিকের প্রাণ গেল শুধুমাত্র জাতিগত ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি নিরপেক্ষভাবে মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে পারছে?
অথবা, রাজনৈতিক বন্ধুত্বই কি মূল্যবান জীবন থেকেও বেশি?
তথ্যসূত্র: ওয়াফা, আলজাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন | আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |