| বঙ্গাব্দ

হৃদরোগের ৫ সতর্কসংকেত, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-10-2026 ইং
  • 19186 বার পঠিত
হৃদরোগের ৫ সতর্কসংকেত, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়
ছবির ক্যাপশন: হৃদরোগ

হৃদরোগের ৫ সতর্কসংকেত, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬

হৃদরোগের লক্ষণ সবসময় তীব্রভাবে প্রকাশ পায় না। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো মৃদু হওয়ায় কেউ সেগুলোকে ক্লান্তি, মানসিক চাপ, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যেতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। হৃদরোগের সম্ভাব্য পাঁচটি সতর্কসংকেত হলো—

বুকে অস্বস্তি বা চাপ

বুকের মাঝখান বা বাঁ দিকে চাপ, টান, ভারী লাগা, চেপে ধরা কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় এ ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে এবং বিশ্রামে কমেও যেতে পারে। তবে সব বুকব্যথাই হৃদরোগের কারণে হয় না।

শ্বাসকষ্ট

হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা স্বাভাবিক কাজের সময় অস্বাভাবিকভাবে হাঁপিয়ে ওঠা সতর্কসংকেত হতে পারে। এমনকি বসে বা শুয়ে থাকার সময় শ্বাসকষ্ট কিংবা রাতে ঘুম ভেঙে হাঁপানোর ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

তবে ফুসফুসের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, উদ্বেগ বা সংক্রমণের কারণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই কারণ স্পষ্ট না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি

পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকে বা আগে সহজে করা কাজ করতে গিয়ে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে হয়, সেটিও সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি ক্লান্তি, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

শরীরের অন্য অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া

হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এটি হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো এমন ব্যথাকে পেশির সমস্যা বা হজমের গোলমাল বলেও মনে হতে পারে।

বুকে অস্বস্তির সঙ্গে শরীরের ওপরের অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম বা হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন

হঠাৎ মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব কিংবা হৃদস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে যাওয়াও হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব উপসর্গের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

কখন জরুরি চিকিৎসা জরুরি?

বুকে তীব্র চাপ বা অস্বস্তি কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে, অথবা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে হৃদরোগ হয়েছে, এমন নয়। উপসর্গের প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শরীরে অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency