| বঙ্গাব্দ

জুয়া— ইহকাল ও পরকালের ধ্বংসের ফাঁদ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-10-2026 ইং
  • 10575 বার পঠিত
জুয়া— ইহকাল ও পরকালের ধ্বংসের ফাঁদ
ছবির ক্যাপশন: জুয়া— ইহকাল ও পরকালের

জুয়া একটি সামাজিক ও নৈতিক মরণব্যাধি: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এর ভয়াবহ পরিণতি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তিকর ব্যস্ততা কিংবা রাতারাতি ভাগ্য বদলানোর অলীক স্বপ্ন মানুষকে প্রায়শই এক অন্ধকার ও সর্বনাশা পথের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই সর্বনাশা পথের নাম—জুয়া। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি ক্ষণস্থায়ী রোমাঞ্চ বা সাময়িক লাভের প্রলোভন দেখালেও এর অনিবার্য পরিণতি হলো ব্যক্তিগত নিঃস্বতা, পারিবারিক ধ্বংস এবং সামাজিক অবক্ষয়। ইসলামি শরিয়তে জুয়া কেবল একটি সাধারণ অপরাধই নয়, বরং মানবাত্মা ও সমাজব্যবস্থাকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খাওয়া এক মরণব্যাধি।

পবিত্র কুরআনে জুয়ার নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারি

ইসলাম ধর্মে জুয়াকে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মদ ও জুয়ার সামাজিক ও নৈতিক ক্ষতি তুলে ধরে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—

“তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলে দিন, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।” (সুরা বাকারা: আয়াত ২১৯)

জুয়াকে মানুষের ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

“হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক তিরসমূহ— এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া অন্য কিছু নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।” (সুরা মায়িদা: আয়াত ৯০)

হাদিসের আলোকে জুয়ার কঠোর শাস্তি

নবী করীম (সা.) জুয়া এবং এর সামান্য প্ররোচনাকেও তীব্র ভাষায় নিষেধ করেছেন। এমনকি নিছক মজার ছলেও কাউকে জুয়ার প্রস্তাব দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে এমন প্রস্তাব দেয়, সে যেন অবিলম্বে দান-খয়রাত করে (বুখারি ৬৩০১)। এছাড়া জুয়া খেলাকে শূকরের গোশত ভক্ষণ করার মতো নিকৃষ্ট কাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে (আদাবুল মুফরাদ ১২১৮)।

জুয়াড়িদের পরকালের চিরস্থায়ী শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন—

“মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, জুয়াড়ি, উপকার করার পর খোঁটাদানকারী এবং সর্বদা মদ্যপায়ী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (নাসাঈ ৫৬৭২)

জুয়ার বহুমুখী ক্ষতি ও ধ্বংসাত্মক পরিণতি

আধুনিক যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও স্মার্টফোনের কল্যাণে জুয়া আরও সহজলভ্য ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। জুয়ার ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • আর্থিক লোকসান ও অবৈধ সম্পদ ভক্ষণ: জুয়ায় কোনো বৈধ শ্রম বা বিনিময় ছাড়াই অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়, যা পবিত্র কুরআনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন— “হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।” (সুরা নিসা: আয়াত ২৯)

  • ইবাদত কবুল না হওয়া: জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর নিয়ে আল্লাহর দরবারে কোনো দোয়া বা ইবাদত কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না (মুসলিম ২২৩৬)।

  • শত্রুতা সৃষ্টি ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিলতি: জুয়া মানুষের ভেতর হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা তৈরি করে এবং মহান আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে (সুরা মায়িদা: আয়াত ৯১)।

  • পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয়: সর্বস্ব হারিয়ে জুয়াড়ি ব্যক্তি তীব্র হতাশার শিকার হয়। ফলে পারিবারিক কলহ, সংসার ভাঙন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে।

জুয়া হলো এক অলীক মরীচিকা, যা সাময়িক উত্তেজনার আড়ালে মানুষের ইহকাল ও পরকাল চিরতরে বরবাদ করে দেয়। ব্যক্তিজীবনকে শান্তি ও স্বস্তিতে রাখতে এবং একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে জুয়ার এই মরণফাঁদ থেকে যুবসমাজ ও সর্বস্তরের মানুষকে দূরে থাকা আবশ্যক।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency