আপনি দৈনিক পত্রিকা থেকে সবজি বাজারের মূল্য সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমি আপনার নির্দেশাবলী মেনে এই তথ্যটিকে বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটের জন্য একটি ইউনিক, তথ্যবহুল এবং সুসসজ্জিত বিশ্লেষণ প্রতিবেদন হিসেবে তৈরি করে দিচ্ছি। এখানে ইমোজি ব্যবহার করা হয়নি, এবং মেটা ডেটা, সূত্র ও প্রতিবেদকের নাম শেষে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে আপনি সরাসরি কপি-পেস্ট করে প্রকাশ করতে পারেন।
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাধারণত শীতের আগমন বার্তা নিয়ে বাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করলেও, এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। ভরা মৌসুম শুরু হলেও রাজধানীর সবজি বাজার এখনও চড়া। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ সবজির দাম উচ্চ অবস্থানে স্থির রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন বাজারের চাপ বেড়েই চলেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর। অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে আটকে আছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজি বাজারের এমন হতাশাজনক চিত্র দেখা যায়।
আজকের বাজারে সবজির দামের তালিকা নিম্নরূপ:
| সবজির নাম | ইউনিট | দাম (টাকায়) |
| ফুলকপি (মাঝারি) | প্রতি পিস | ৪০ |
| বাঁধাকপি (মাঝারি) | প্রতি পিস | ৪০ |
| বেগুন (গোল) | প্রতি কেজি | ৮০ |
| মুলা | প্রতি কেজি | ৪০ |
| ঝিঙা | প্রতি কেজি | ৮০ |
| বরবটি | প্রতি কেজি | ১০০ |
| করলা | প্রতি কেজি | ১০০ |
| শসা | প্রতি কেজি | ৮০ |
| গাজর | প্রতি কেজি | ৮০ |
| শালগম | প্রতি কেজি | ৬০ |
| মিষ্টি কুমড়া | প্রতি কেজি | ৫০ |
| শিম | প্রতি কেজি | ৬০ |
| কাঁচা মরিচ | প্রতি কেজি | ৮০ |
| পেঁপে | প্রতি কেজি | ৪০ |
| নতুন আলু | প্রতি কেজি | ১২০ |
| পেঁয়াজের ফুল | প্রতি কেজি | ৮০ |
পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগির বাজার:
পেঁয়াজ: দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছু জায়গায় ১১০–১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ডিম: ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১২৫–১৩০ টাকায় তুলনামূলক স্থিতিশীল।
ব্রয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ১৬০–১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম বেশি থাকার প্রসঙ্গে মালিবাগ বাজারের বিক্রেতারা জানান, "পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। সে কারণে আমাদের কেনা দাম বেশি পড়ছে, ফলে বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে।"
বিক্রেতা রাকিব দাম না কমার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, "এখন বাজারে সবজি আছে, তারপরও দাম কমছে না। পাইকাররা বলেন সবজির সাপ্লাই কম, চাহিদা বেশি। আবার বলেন হঠাৎ যে রকম বৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষতি এখনও পোষাতে পারেনি, অনেক চারা নষ্ট হয়েছে। তাই দাম বেশি। আমদানি করলে নাকি দাম কমে যাবে।"
ছুটির দিনে খিলক্ষেতে বাজার করতে আসা ক্রেতা রিফাত সরকার সবজির দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "শীতের সময় সব ধরনের সবজির দাম কমে যায়। কিন্তু এবার দেখছি উলটোটা, শীত এসেছে ঠিকই কিন্তু সব সবজির দাম বেড়ে গেছে। এমন বাড়তি দাম আগে কখনো দেখিনি। তবুও বাধ্য হয়ে বাসায় খাবার জন্য সবজি কিনতে হচ্ছে, তবে আগে যেখানে এক কেজি কিনতাম, এখন সেটা আধা কেজি করে কিনতে হচ্ছে। কষ্ট লাগে এসব দেখার কেহ নেই।"
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে (১৯৫০-২০২৫) কৃষিপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। ১৯৫০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতো। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ এবং ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে বিরাট পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
বর্তমান ২০২৫ সালে ভরা মৌসুমেও সবজির এই চড়া দাম ইঙ্গিত দেয় যে, সাপ্লাই চেইনের কোনো স্তরে দুর্বলতা বা কারসাজি চলছে। বিক্রেতাদের বৃষ্টি ও চারা নষ্ট হওয়ার অজুহাত পুরাতন হলেও, দুই মাসের অধিক সময় ধরে এই উচ্চমূল্য স্থির থাকাটা বাজারের স্বাভাবিক গতিকে সমর্থন করে না। এটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং প্রতিযোগিতা আইনের কঠোর প্রয়োগের অনুপস্থিতিকেই তুলে ধরছে, যা বছরের পর বছর ধরে কৃষিপণ্য বাজারে বিরাজমান। অতীতেও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |