| বঙ্গাব্দ

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ? ইসলামের বিধান কী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-10-2026 ইং
  • 8590 বার পঠিত
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ? ইসলামের বিধান কী
ছবির ক্যাপশন: সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?

ইসলামে বিয়ে ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত: পাত্র-পাত্রীর সম্মতির গুরুত্ব এবং শরয়ি বিধান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

ইসলাম ধর্মে বিয়ে কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি অত্যন্ত পবিত্র ইবাদত এবং মজবুত পারিবারিক বন্ধন গঠনের প্রধান মাধ্যম। সামর্থ্যবান যুবকদের যথাসময়ে বিয়ের প্রতি জোরালো উৎসাহ দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সহিহ বুখারির বিখ্যাত হাদিস অনুযায়ী, বিয়ে মানুষের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান ও পবিত্রতা রক্ষায় সবচেয়ে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করে। তবে এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর নিজস্ব সম্মতি বা ইচ্ছাকে ইসলামে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাত্র-পাত্রীর সম্মতি কেন অপরিহার্য?

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষের মতামত বা অনুমতি উপেক্ষা করে জোরপূর্বক তাদের বিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো বৈধ বিবাহ চুক্তির ক্ষেত্রে প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল)-এর পাশাপাশি সাক্ষীর উপস্থিতি এবং উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন,

“তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীর মতামত নেওয়া ছাড়া এবং কুমারি নারীর অনুমতি বা স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না।” উক্ত হাদিসে আরও বলা হয়েছে যে, কুমারি নারীর ক্ষেত্রে অনেক সময় লজ্জার কারণে সরাসরি হ্যাঁ বলা কঠিন হয়, তাই তার ক্ষেত্রে নীরবতাকেও সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

জোরপূর্বক বিয়ে এবং শরিয়তের কঠোর অবস্থান

সন্তানের অমতে বা জোর করে বিয়ে দেওয়ার পরিণতির ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলে প্রখ্যাত সাহাবি খানসা বিনতে খিজাম (রা.)-এর ঘটনায়। তার বাবা তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপছন্দের পাত্রে বিয়ে দিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে জানালে মহানবী (সা.) সেই বিয়েটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫={৫১৩৮})

আরেকটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে অভিযোগ করেন যে, তার বাবা কেবল নিজের সামাজিক মর্যাদা বা সম্মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। তখন নবীজি সম্পূর্ণ বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন—তিনি চাইলে সেই বিয়ে বহাল রাখতে পারতেন, আবার চাইলে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করারও অধিকার রাখিছিলেন। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

ইসলামিক স্কলার ও আইনবিদদের মতামত

ইসলামী আইনবিদ ও ফকিহগণের আলোচনাতেও সন্তানের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) স্পষ্ট করে বলেছেন, বাবা-মায়ের এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়, যাকে ছেলে মনেপ্রাণে পছন্দ করে না। ছেলে যদি এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাকে শরয়ি দৃষ্টিতে অবাধ্য বা অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহও বিভিন্ন সময় দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, সন্তানের তীব্র অনিচ্ছা বা অমতের বিরুদ্ধে গিয়ে জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার বাবা-মায়ের নেই। ছেলে হোক কিংবা মেয়ে—উভয়েরই পছন্দ-অপছন্দকে মূল্যায়ন করতে হবে। পাত্র-পাত্রীর সম্মতি ছাড়া কেবল অভিভাবকদের জেদের বশে বিয়ে দেওয়া ইসলামে কোনোভাবেই বৈধ নয়।

অভিভাবকের পরামর্শ ও সম্মানের পারস্পরিক মেলবন্ধন

ইসলাম যেমন জোরজবরদস্তির বিপক্ষে, তেমনি এটি বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান ও তাদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করার শিক্ষাও দেয়। বিয়ের মতো জীবনের এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক পরামর্শ এবং অভিভাবকদের সন্তুষ্টি অর্জন করা অত্যন্ত কল্যাণকর। সন্তানদেরও উচিত মা-বাবার সঙ্গে সম্মানজনক ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর যদি কোথাও জোরজবরদস্তি বা অনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তা নিরসনে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা অভিজ্ঞ ইসলামী আইনজ্ঞদের শরণাপন্ন হয়ে শরীয়তসম্মত সমাধান নেওয়া যেতে পারে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency