| বঙ্গাব্দ

সবুজ সংকেত রূপপুরে, প্রতিকূলতা পেরিয়ে জ্বলল আশার আলো

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-10-2026 ইং
  • 5408 বার পঠিত
সবুজ সংকেত রূপপুরে, প্রতিকূলতা পেরিয়ে জ্বলল আশার আলো
ছবির ক্যাপশন: সবুজ সংকেত রূপপুরে,

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন: ডিসেম্বরে গ্রিডে বিদ্যুৎ আসার জোরালো সম্ভাবনা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিকূলতা সফলভাবে পেরিয়ে অবশেষে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তার প্রথম ইউনিটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সবুজ সংকেত’ বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রাক্কালে পরমাণু প্রযুক্তির সবচেয়ে জটিল এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ (First Criticality)।

অনুমোদন ও নিরাপত্তা জটিলতার অবসান

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)—এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করে। বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর এই অনুমতি মিললেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভের (PORV/POSV) কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এই অনুমোদন প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়া থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেই সমস্যার অত্যন্ত কার্যকর সমাধান করে এবং বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষায় সেটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। এর ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ ও পরবর্তী ধাপসমূহ

রূপপুর প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ ছিল এই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করা। বায়রার অনুমোদনের পর এখন প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন (শৃঙ্খল বিক্রিয়া) শুরু হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরটি স্থির অবস্থা থেকে একটি সক্রিয় অপারেশনাল পারমাণবিক স্থাপনায় রূপান্তরিত হবে।

  • ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ: এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার ১ শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে প্রাথমিক স্তরে নেওয়া হবে। এ সময় রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

  • পাওয়ার স্টার্ট-আপ: ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ সফল হওয়ার পর প্রকল্পটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ ধাপে প্রবেশ করবে। এই পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি, টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ শুরু হবে। তবে এর জন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আলাদাভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সংযোগ

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, উৎপাদন শুরুর পর প্রাথমিকভাবে ৩ শতাংশ শক্তি দিয়ে শুরু করে তা ধাপে ধাপে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এরপরই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রথম দফায় টানা ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।

জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হবে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency