| বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-10-2026 ইং
  • 9146 বার পঠিত
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর
ছবির ক্যাপশন: ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে বছরে লাগবে ৬০ হাজার কোটি টাকা: গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

বিগত সময়ের ব্যাপক ‘আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি’ থেকে দেশের ভেঙে পড়া ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় টেনে তুলতে ও সচল করতে আগামী ৫ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ বিস্ফোরক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা এবং ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান উপস্থিত ছিলেন। চার শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এই আয়োজনে অংশ নেন।

ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থই গায়েব

আর্থিক খাতের নজিরবিহীন অর্থপাচার ও চরম অনিয়মের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি যখন গভর্নর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট আমানত ও তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই লুটেরাদের দখলে চলে গিয়েছিল।

গভর্নর জোর দিয়ে বলেন:

“এই পরিমাণ বিশাল অর্থ দিয়ে দেশের অন্তত ২ কোটি দরিদ্র পরিবারকে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া যেত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প সম্পূর্ণ অর্থায়নে নির্মাণ করা যেত। এই অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত সাধারণ শব্দ যথেষ্ট নয়; এটি সাধারণ চুরি ছিল না, এটি ছিল চরম লুটপাট। অনিয়ম ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

ক্যাম্পাসে ক্যাশলেস ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্টের শুভসূচনা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তরুণ প্রজন্মকে নগদ টাকার লেনদেন থেকে বের করে এনে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করা এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ইউআইইউতে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আউটলেট ও ক্যাফেটেরিয়ায় সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যান করে তাদের যাবতীয় কেনাকাটা ও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, “দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সেবা যত সহজ হয়, ডিজিটাল রূপান্তর তত বেশি অর্থবহ রূপ নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিশন বা স্মার্ট ক্যাশলেস বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত।”

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ, আর্থিক খাতের উদ্ভাবন এবং দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার পুনর্গঠন নিয়ে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency