প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
শারদীয় দুর্গাপূজা, ক্রিসমাস বা অন্য যেকোনো অমুসলিম ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন বা শুভকামনা জানানো নিয়ে অনেক মুসলিমের মনে প্রশ্ন জাগে। ইসলামি শরিয়তের ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি এবং আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকেই এর সুনির্দিষ্ট জবাব মিলছে।
এ বিষয়ে উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি বিস্তারিত শরয়ি ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।
ইসলামি আইন শাস্ত্র ও আলেমদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী, অন্য যেকোনো ধর্মের পূজো-পার্বণ কিংবা উৎসব উপলক্ষে কাউকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম।
প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আহকামু আহলিয যিম্মাহ’-তে উল্লেখ করেছেন:
"কোনো কুফরি বা ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন—কারো পূজো বা উৎসব উপলক্ষে বলা যে, 'তোমাদের উৎসব শুভ হোক' কিংবা 'উৎসব উপভোগ্য হোক' বা এ জাতীয় অন্য কিছু। এটি ক্রুশকে সিজদা দেওয়া কিংবা শিরকি কাজে অভিনন্দন জানানোর সমতুল্য, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত জঘন্য গুনাহ।"
ইসলামি শরিয়তের নীতি অনুযায়ী, কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো—সেই অনুষ্ঠানের অন্তর্নিহিত বিশ্বাস বা আকাইদের প্রতি সম্মতি বা স্বীকৃতি প্রকাশ করা। যদিও একজন মুসলিম নিজে সে কাজে অংশ না নেয়, তবুও কুফরি বা শিরকি আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা কিংবা সে উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা মুসলিমের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বান্দার জন্য ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো বিশ্বাস বা কুফরির প্রতি সন্তুষ্ট নন:
সুরা যুমার (আয়াত: ৭):
$إِنْ\ تَكْفُرُوا\ فَإِنَّ\ اللَّهَ\ غَنِيٌّ\ عَنْكُمْ\ وَلَا\ يَرْضَىٰ\ لِعِبَادِهِ\ الْكُفْرَ$
অর্থ: “যদি তোমরা কুফরি করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না।”
সুরা আলে ইমরান (আয়াত: ৮৫):
$وَمَنْ\ يَبْتَغِ\ غَيْرَ\ الْإِسْلَامِ\ دِينًا\ فَلَنْ\ يُقْبَلَ\ مِنْهُ\ وَهُوَ\ فِي\ الْآخِرَةِ\ مِنَ\ الْخَاسِرِينَ$
অর্থ: “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।”
১. শুভেচ্ছা বার্তা এলে উত্তর দেওয়া যাবে না:
ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কোনো বন্ধু বা সহকর্মী যদি নিজের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানায়, তবে কোনো মুসলিমের জন্য তার উত্তর বা ধন্যবাদসূচক প্রতি-শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নয়। কারণ সেই উৎসবটি ইসলামে অনুমোদিত নয়।
২. উৎসবের দাওয়াত কবুল ও উপহার আদান-প্রদান:
অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের দাওয়াত গ্রহণ করা, উৎসবে সশরীরে অংশগ্রহণ করা, সে উপলক্ষে বিশেষ উপহার দেওয়া-নেওয়া, খাবার-দাবার বা মিষ্টান্ন বিতরণ করা এবং তাদের মতো ছুটির আনন্দে মেতে ওঠা সম্পূর্ণ হারাম।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কড়া হুঁশিয়ারি রয়েছে:
“যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সঙ্গে (আচার-আচরণে) সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (সুনানে আবু দাউদ)
সৌজন্য প্রকাশ, সামাজিক শিষ্টাচার বা লজ্জাবোধের খাতিরেও দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাসের বাইরে গিয়ে এমন কোনো কাজে অংশগ্রহণ করা গুনাহের শামিল।
সারকথা: ইসলাম অমুসলিমদের সাথে সামাজিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবতা, সদয় আচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার পূর্ণ নির্দেশ দেয়। তবে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব বা উপাসনায় অংশ নেওয়া কিংবা শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা ঈমানী সীমানার পরিপন্থী হওয়ায় তা সম্পূর্ণ হারাম।
]
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |