| বঙ্গাব্দ

সুস্থ হয়ে দায়িত্ব ফেরার ঘোষণা ভিসির, মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-10-2026 ইং
  • 10489 বার পঠিত
সুস্থ হয়ে দায়িত্ব ফেরার ঘোষণা ভিসির, মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা
ছবির ক্যাপশন: সুস্থ হয়ে দায়িত্ব ফেরার ঘোষণা ভিসির

চুয়েটে ভিসি-শিক্ষার্থীদের চরম মুখোমুখি অবস্থান: কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত, অচলাবস্থায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

সুস্থ হয়ে দ্রুতই ক্যাম্পাসে ফিরে দায়িত্ব পুনর্বহাল করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে কোনো অবস্থাতেই তাকে চুয়েট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভিসির দাবি, তাঁর প্রতি সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে বুধবারও (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ও আন্দোলনকারীদের এই পাল্টাপাল্টি এবং অনড় অবস্থানের কারণে চুয়েটের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

অবরুদ্ধ নাটকের ৩০ ঘণ্টা ও চমেক হাসপাতালে ভর্তি

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (১২ অক্টোবর)। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভিসি প্রবেশের সময় তাঁর সাথে চুয়েট ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাস ত্যাগের আলটিমেটাম দেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি বের না হওয়ায় উপাচার্যসহ ১২ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে একপর্যায়ে অবরুদ্ধ থাকা একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) মধ্যস্থতায় মুক্ত হন উপাচার্য। সাথে সাথে উদ্ধার করা হয় ভেতরে থাকা চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রদল নেতাকর্মীদেরও। মুক্ত হওয়ার পর অসুস্থ ভিসিকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভিসির বক্তব্য বনাম শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি

মঙ্গলবার মুক্ত হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল— ‘চুয়েট ক্যাম্পাসে আর কখনো প্রবেশ করবেন না’— এই শর্তেই কেবল ভিসিকে নিরাপদে যেতে দেওয়া হয়েছে।

তবে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার এক বিবৃতিতে উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন:

"আমি পদত্যাগ করেছি বা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আসব না— এমন কোনো বক্তব্য বা অঙ্গীকার আমি দিইনি। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করার সময় আমি কথা বলার মতো শারীরিক অবস্থাতেই ছিলাম না। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি; সুস্থ হয়ে ইনশাআল্লাহ আবারও চুয়েটের দায়িত্ব পালন করব।"

ভিসির এই বক্তব্যের পরই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন:

"আমরা ডিসি ও এসপি মহোদয়কে জানিয়েছিলাম, তিনি আর চুয়েটে আসবেন না— এই শর্তেই ছাড়া হবে। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় আমরা তিনবার মিডিয়ার সামনে শর্তটি বলি, তখন ভিসি বা সাথে থাকা ৯ জন কেউ প্রতিবাদ বা হাতের ইশারাও করেননি। তাই আশ্বস্ত হয়ে আমরা তাঁকে যেতে দিই। এখন যদি তিনি আবারও ক্যাম্পাসে আসার চেষ্টা করেন, তবে আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেবে। এই নতুন সংকটের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরই নিতে হবে।"

শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও অধ্যাপক আরাফাতকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষকরাও নিজেদের কর্মসূচিতে অনড় রয়েছেন। চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের সব ধরনের কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এর জন্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

অন্যদিকে, উপাচার্য অবরুদ্ধ থাকার সময় তাঁর সাথে উপস্থিত থাকায় চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে দেওয়া বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক হয়েও প্রাঙ্গণে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের প্রবেশে মদদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছেন ওই শিক্ষক, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সার্বিক সংকট কাটাতে দ্রুত সরকারি কিংবা উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency