নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশ করা হবে—এমন খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ খবরের সত্যতা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতার সমাধান না হওয়ায় ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়ও জানাতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাউশির একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকও দেশের বাইরে আছেন। এ ছাড়া বদলি কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শিগগিরই ফল প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকে ফল প্রকাশের যে খবর ছড়িয়েছে, তা গুজব। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফেরার পর বদলির জটিলতা নিরসনে সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানানো যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ সফটওয়্যারসংক্রান্ত সমস্যা নয়। বরং ঢাকায় বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তদবির ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে চাওয়ায় তাঁদের পক্ষে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদবির করছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকায় বদলি হলে কোন শিক্ষক কোন প্রতিষ্ঠানে পদায়ন পাবেন, তা নিয়েও তদবির চলছে।
অন্যদিকে, বদলির আবেদন বাতিল করতে চান—এমন শিক্ষকদের একটি অংশ আবেদন মুছে ফেলার সুবিধা বা ‘ডিলিট অপশন’ চালুর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বদলির আবেদনে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের সুযোগ চেয়েও আবেদন করেছেন আরেক দল শিক্ষক।
এ ছাড়া শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা কিছু শিক্ষক আপাতত বদলি হতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসার সম্ভাবনা থাকায় তাঁরা বর্তমান কর্মস্থলে থাকতে চাইছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, কিছু শিক্ষক পারিবারিক পরিস্থিতির কারণেও বদলি হতে চাইছেন না। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না থাকার কারণে কেউ কেউ বর্তমান কর্মস্থলে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন আবেদন, তদবির ও চাপের কারণে বদলি কার্যক্রমে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এনটিআরসিএ ১৯২ জনকে প্রতিস্থাপন করেছে। প্রতিস্থাপিত পদগুলোতে বদলির জন্য আগে থেকেই আবেদন করেছেন কিছু শিক্ষক। তাঁদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ কারণেও ফল প্রকাশে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণ শেষ হয়। ওই সময় মোট ১৩ হাজার ৬৭৮টি আবেদন জমা পড়ে। তবে একজন প্রার্থী একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় প্রকৃত আবেদনকারীর সংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট করা যায়নি।
সূত্র: যুগান্তর
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |