| বঙ্গাব্দ

মেরুদণ্ডে আঘাত কি পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট করে, যা বলছে গবেষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-10-2026 ইং
  • 8480 বার পঠিত
মেরুদণ্ডে আঘাত কি পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট করে, যা বলছে গবেষণা
ছবির ক্যাপশন: মেরুদণ্ডে আঘাত কি পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট

মেরুদণ্ডে আঘাতে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনের রহস্য উন্মোচন: নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে গবেষণা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতের পর পুরুষদের চলাচলের সক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি প্রজননক্ষমতাও যে মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়—তা চিকিৎসকেরা বহু দশক ধরেই জানেন। তবে সুনির্দিষ্ট ঠিক কোন জৈবিক কারণে এমনটি ঘটে, তা এতদিন ছিল অজানা। এবার সেই রহস্যের জট খুলতে ও চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষণা শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. জেনিফার ডুলিন এবং তাঁর গবেষক দল।

ক্রেইগ এইচ. নিলসেন ফাউন্ডেশনের দুই বছর মেয়াদি অনুদানে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা হচ্ছে, মেরুদণ্ডে ট্রমা বা আঘাতের পর কীভাবে প্রজননতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের যোগাযোগের ভারসাম্য নষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ মেরুদণ্ডে আঘাত পান, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই পুরুষ এবং তাঁদের বড় একটি অংশই সন্তান ধারণের উপযোগী তরুণ বয়সের।

স্নায়ুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও প্রজননতন্ত্রের ওপর প্রভাব

মস্তিষ্কের সাথে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মূল হাইওয়ে হলো মেরুদণ্ড। ড. জেনিফার ডুলিনের মতে, আঘাত পাওয়ার পর এই স্নায়বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পরও পুরুষের অণ্ডকোষে স্বাভাবিক শুক্রাণু (Sperm) উৎপাদন বন্ধ হয় না এবং চিকিৎসকেরা প্রযুক্তির মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহও করতে পারেন। কিন্তু দেখা যায়, আঘাত পাওয়ার পর সেই শুক্রাণুর গুণগত মান বা কার্যক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়, যা নিষেক ঘটাতে ব্যর্থ হয়। ডুলিনের দল মূলত শুক্রাণুর মান খারাপ হওয়ার সেই পেছনের জৈবিক কলকব্জাগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

‘ব্লাড-টেস্টিস ব্যারিয়ার’ ভেঙে পড়া ও অনাক্রম্যতন্ত্রের আক্রমণ

গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সম্ভাব্য কারণ— ‘ব্লাড-টেস্টিস ব্যারিয়ার’ (Blood-Testis Barrier) বা রক্ত ও অণ্ডকোষের মধ্যবর্তী স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হওয়া।

  • সুরক্ষাবলয় ভেঙে যাওয়া: মস্তিষ্কের ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ারের মতো অণ্ডকোষের এই সুরক্ষাবলয়টি বাড়ন্ত শুক্রাণুকে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System)-এর হাত থেকে রক্ষা করে।

  • শুক্রাণুর ওপর আক্রমণ: ড. ডুলিনের পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, মেরুদণ্ডে আঘাতের পর স্নায়বিক বিপর্যয়ের ফলে এই প্রাচীরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে বিকাশমান শুক্রাণু শরীরের ইমিউন সিস্টেমের মুখোমুখি চলে আসে।

  • প্রদাহ সৃষ্টি: শরীরের রোগপ্রতিরোধক কোষগুলো তখন নিজের তৈরি শুক্রাণুকেই বাইরের শত্রু মনে করে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে থাকে। একইসাথে নিঃসৃত প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদান অণ্ডকোষের ভেতরে ক্ষতিকর পরিবেশ তৈরি করে শুক্রাণুর উর্বরতা নষ্ট করে দেয়।

প্রজননক্ষমতা পুনরুদ্ধারের আশার আলো

তবে এই গবেষণায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য বড় আশার বার্তা রয়েছে। ড. ডুলিন জানান, পুরুষদেহে প্রাকৃতিকভাবেই প্রতিনিয়ত নতুন শুক্রাণু তৈরি হতে থাকে। ফলে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ‘ব্লাড-টেস্টিস ব্যারিয়ার’ বা অণ্ডকোষের প্রাক-সুরক্ষাপ্রাচীর যদি চিকিৎসার মাধ্যমে পুনর্গঠন বা মেরামত করা সম্ভব হয়, তবে তাত্ত্বিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত পুরুষের প্রজননক্ষমতাও পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

গবেষণায় জড়িত পিএইচডি গবেষক ড. আকরাম এসফানদানি বলেন, “মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত পুরুষরা পক্ষাঘাতের চেয়েও পরিবার গড়া, বিয়ে ও বাবা হতে পারার সক্ষমতা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন। অথচ প্রজননসংক্রান্ত এই মানসিক ও শারীরিক সমস্যাটি এতদিন গবেষণায় উপেক্ষিত থেকে গেছে।”

ড. ডুলিন ও তাঁর দলের এই গবেষণা ভবিষ্যতে মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার তরুণের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি তাঁদের বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency