প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ইসলামি শরিয়তে গোসল ফরজ হওয়ার পর তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ফরজ গোসলের সময় নাকে পানি দেওয়া অন্যতম প্রধান একটি ফরজ কাজ। তবে নাকের ভেতরে পানি পৌঁছানোর সঠিক সীমা কতটুকু, শক্ত হাড্ডি পর্যন্ত পানি পৌঁছানো কিংবা ভেতরে পানির ঝাঁজ অনুভব করা আবশ্যক কি না—এসব নিয়ে অনেকের মনেই নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত জোর দিয়ে নাকে পানি টেনে নেওয়াকেও বাধ্যতামূলক মনে করেন। হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ এবং হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে গাজীপুরের মিরাশপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি সিরাজুল ইসলাম শরিয়তের সঠিক নিয়ম ও সীমা তুলে ধরেছেন।
মুফতি সিরাজুল ইসলাম জানান, ফিকহ শাস্ত্রের পরিভাষায় নাকের সামনের নরম অংশকে ‘মারিন’ (المارن) বলা হয়। ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে নাকের শক্ত হাড়ের নিচে থাকা এই নরম অংশের ভেতরের ত্বক পর্যন্ত পানি পৌঁছানোই আবশ্যক বা ফরজ।
ঝাঁজ অনুভব করা জরুরি নয়: অনেকে মনে করেন নাকে পানি টেনে গলার কাছে বা মাথায় ঝাঁজ অনুভব করানো ফরজ। তবে মুফতি সিরাজুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, নাকের একেবারে গভীরে জোর করে পানি টেনে নেওয়া কিংবা পানির ঝাঁজ অনুভব করা মোটেই ফরজ নয়; বরং নরম চামড়া ভিজলেই ফরজ আদায় হয়ে যাবে।
‘আল-বাহরুর রায়েক’ গ্রন্থের উক্তি: বিখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবনে নুজাইম (রহ.) তাঁর ‘আল-বাহরুর রায়েক’ গ্রন্থে নাকে পানি দেওয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, “নাকের মারিন (নরম অংশ) পর্যন্ত পানি পৌঁছানোকে ইস্তিনশাক বলা হয়।” উক্ত গ্রন্থে নাক ও মুখে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালোভাবে ধৌত বা পরিচ্ছন্ন করাকে গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (আল-বাহরুর রায়েক: ১/২২)
‘রদ্দুল মুহতার’ (ফাতাওয়া শামি)-এর উক্তি: আল্লামা ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) তাঁর বিশ্বখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ ‘রদ্দুল মুহতার’-এ লিখেছেন, “নাকের যে অংশটি নরম, তা পানি দিয়ে ধৌত করা ও পবিত্র করা আবশ্যক।” (রদ্দুল মুহতার: ১/১৩৪)
সাধারণ সময়ে নাকে ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা উত্তম বা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ হলেও রোজা রাখা অবস্থায় এতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন:
“তুমি নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নাও (ভালোভাবে পানি দাও), তবে তুমি রোজাদার হলে নয়।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪২; জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭৮৮)
উক্ত হাদিসের আলোকে ফকিহগণ জানান, রোজা রাখা অবস্থায় ফরজ গোসল বা অজু করার সময় নাকে অতিরিক্ত জোরে পানি টানা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, জোরে পানি টানলে তা নাকের ভেতর দিয়ে গলার ভেতরে বা পেটে চলে যেতে পারে, যাতে রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সারসংক্ষেপ: ফরজ গোসলের সময় জোর করে পানি মাথার ভেতরে না টেনে, স্বাভাবিকভাবে নাকের নরম অংশের ভেতরের অংশে পানি পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট এবং এর মাধ্যমেই ফরজিয়াত পুরোপুরি আদায় হয়ে যাবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |