| বঙ্গাব্দ

পা দিয়ে লিখে আইন বিষয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর পাশ, এবার সিভিল জজ হতে চান বিউটি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-10-2026 ইং
  • 115075 বার পঠিত
পা দিয়ে লিখে আইন বিষয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর পাশ, এবার সিভিল জজ হতে চান বিউটি
ছবির ক্যাপশন: এবার সিভিল জজ হতে চান বিউটি

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে রাবি থেকে আইন পাস করা বিউটি খাতুনের লক্ষ্য এখন বিচারক হওয়া

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

শারীরিক সব প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যাবসায়ের জোরে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষণজন্মা তরুণী বিউটি খাতুন। জন্ম থেকেই দুটি হাত না থাকলেও পায়ের আঙুলের সুনিপুণ ছোঁয়ায় লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। এখন তাঁর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য—বিজেএস (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে একজন সিভিল জজ হিসেবে দেশের বিচার বিভাগে যোগ দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অবহেলিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল শিবপুর গ্রামের একটি অত্যন্ত সাধারণ ও দরিদ্র কৃষক পরিবারে বিউটি খাতুনের জন্ম। জন্মগতভাবে দুটি হাত না থাকায় শৈশবেই তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে চরম সামাজিক দুশ্চিন্তা ও হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত অন্ধকার ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে আত্মবিশ্বাসের আলো জ্বেলে আজ উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেছেন এই অদম্য নারী।

শৈশব থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য ও প্রবল ঝোঁক। দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই নিজ প্রচেষ্টায় পা দিয়ে লেখার এক ব্যতিক্রমী ও অসম্ভব সুন্দর অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। এই অদম্য শক্তির জোরেই একে একে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি সাফল্যের সঙ্গে পেরিয়ে তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং পরবর্তীতে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন। সম্প্রতি সেই বিভাগ থেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিউটি। বিশেষ ব্যাপার হলো, শুধু পড়াশোনা বা লেখালেখিই নয়, পায়ের সাহায্যেই ঘরের যাবতীয় কাজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কাজ অত্যন্ত সাবলীলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন তিনি।

শিক্ষাজীবনের এই কণ্টকাকীর্ণ ও দীর্ঘ পথপরিক্রমায় পরিবার, সমাজের কিছু হৃদয়বান বিত্তবান ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীর কাছ থেকে নানা সময়ে সহায়তা পেয়েছেন বিউটি। অতীত স্মৃতির রোমন্থন করে তিনি জানান, শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের প্রতি পদক্ষেপে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও মানুষের নেতিবাচক কটূকথা সহ্য করে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন তিনি। কারও দয়া বা করুণার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা নয়, বরং নিজের মেধাবিকাশ ও যোগ্যতার সুদৃঢ় ভিত্তিতে সমাজে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল ও প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান তিনি।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency