| বঙ্গাব্দ

ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা শিষ্টাচারের পরিপন্থী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-10-2026 ইং
  • 12453 বার পঠিত
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা শিষ্টাচারের পরিপন্থী
ছবির ক্যাপশন: শিষ্টাচারের পরিপন্থী

টয়লেটে মোবাইল ব্যবহারের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ: অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

স্মার্টফোন ছাড়া বর্তমান আধুনিক যুগে আস্ত একটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যেন অনেকের কাছেই এক প্রকার অসম্ভব কল্পনা। পকেটে বা হাতের নাগালে মোবাইল না থাকলেই মনের ভেতর এক ধরনের অজানা অস্থিরতা কাজ করে। কিছুক্ষণ পরপর নোটিফিকেশন চেক করা কিংবা অন্তহীন স্ক্রল করার এই তীব্র নেশা এখন ঘরের চার দেওয়াল ছাড়িয়ে অবলীলায় ঢুকে পড়েছে বাথরুম বা টয়লেটের অন্দরেও। তবে অভ্যাসবশত কমোডে বসেও যারা নিয়মিত স্ক্রিন স্ক্রল করেন, তারা আসলে সম্পূর্ণ অজান্তেই নিজেদের শরীরে মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনছেন বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা কমোডে বসে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে ও সীমিত পরিসরে অসংখ্য ক্ষতিকারক জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া যেমন ই-কোলাই (E. coli), স্যালমোনেলা এবং সি ফুসিলির মতো রোগজীবাণু ভাসমান থাকে। ফ্লাশ করার সময় পানির অতিক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এই অদৃশ্য জীবাণুগুলো বাথরুমের বাতাস থেকে শুরু করে সরাসরি মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ও বডিতে এসে আস্তানা গড়ে। এরপর হাত ধোওয়ার পরও যখন আমরা সেই ফোনটি হাতে ব্যবহার করি এবং মুখে বা খাবারের সংস্পর্শে যাই, তখন খুব সহজেই মারাত্মক পেটের পীড়া, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস কিংবা অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া কমোডে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাসের কারণে মলদ্বারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা পরবর্তীতে পাইলস বা অর্শ্বরোগের মতো কষ্টদায়ক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ ও শিষ্টাচার আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও টয়লেটে ফোন ব্যবহার বা অকারণে সময় কাটানো অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয় একটি কাজ। ইসলামী শিষ্টাচার অনুযায়ী, ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান; সেখানে অপ্রয়োজনীয় কোনো কাজ করা, গান শোনা, ভিডিও দেখা বা সরাসরি কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।

তবে ইসলামি আইন অনুযায়ী, ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি কোনো জরুরি বা বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়—যেমন কলস বা ট্যাংকের পানি ফুরিয়ে যাওয়া, বা পর্যাপ্ত টিস্যু পেপার না থাকা—তবে প্রয়োজনে বাইরে থাকা কাউকে ডেকে সাহায্য চাওয়া বা কথা বলা জায়েজ রয়েছে; এটি হারাম নয়। তবে এই ক্ষেত্রে কঠোরভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই মহান আল্লাহর কোনো সত্ত্বা বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা, পবিত্র দোয়া কিংবা পবিত্র কোরআন-হাদিসের আয়াত বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নাম লেখা রয়েছে, তার উচ্চারণ বা প্রকাশ না ঘটে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency