| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের নতুন উদ্যোগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-10-2026 ইং
  • 50919 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের নতুন উদ্যোগ
ছবির ক্যাপশন: যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন সামরিক সংঘাত এড়াতে কাতারের মধ্যস্থতা, ১২ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের শঙ্কা চরম আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইরানি রাজধানী তেহরানে মধ্যস্থতাকারী কাতারি প্রতিনিধিরা একটানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।

মার্কিন জনপ্রিয় নীতিসংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে একটি ন্যূনতম সমঝোতা বজায় রাখা এবং অঞ্চলে যেকোনো মূল্যে নতুন করে যুদ্ধের ভয়াবহ ঝুঁকি এড়ানোর উদ্দেশ্যে এই নিবিড় মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচনার পরবর্তী পর্ব অব্যাহত থাকবে।

কাতারি প্রতিনিধি দল দুই পক্ষকে অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু পারস্পরিক নমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে রাজি করানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কাতার আশা করছে, এই প্রাথমিক সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বন্ধ থাকা সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা ফের চালুর সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি হবে।

সমঝোতার প্রধান দুই বাধা ও শর্তাবলি তবে দোহা ও তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুটি প্রধান ও জটিল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আলোচনার টেবিলে আনুষ্ঠানিকভাবে বসার আগেই ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রেখে ছাড় দিতে হবে। ২. ইরানের পাল্টা শর্ত: অন্যদিকে তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থেকে সুনির্দিষ্ট দাবি তুলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বাগ্রে ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে অবরুদ্ধ বা জব্দ করে রাখা কোটি কোটি ডলারের ইরানি অর্থ অবিলম্বে মুক্ত বা ছাড় দিতে হবে।

উভয় দেশের এমন বিপরীতমুখী কঠোর শর্ত ও চরম মতপার্থক্যের কারণে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের পক্ষে আলোচনার প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে সমগ্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দাবানলের মতো অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

এমন নাজুক ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরাশক্তি সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর এবং পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংঘাতের পথ পরিহার করে অতি দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জোর তাগিদ দিয়েছে।

এসব দেশ আশঙ্কা ব্যক্ত করে জানিয়েছে, বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই দুই পক্ষের মধ্যে যদি নতুন করে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

বর্তমানে এই সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় কাতারের মধ্যস্থতায় সর্বোচ্চ স্তরের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও, পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া ও অবরুদ্ধ তহবিল ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে উভয় দেশের অনমনীয় মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত কাতার কতটুকু সফল হবে—তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency