| বঙ্গাব্দ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-11-2026 ইং
  • 5764 বার পঠিত
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ
ছবির ক্যাপশন: মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে অনিশ্চয়তা: রিয়াদের জবাব মেলেনি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক—নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সুইটি আক্তারের মরদেহ বর্তমানে কোথায় এবং কোন অবস্থায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিন্দুমাত্র তথ্য জানতে পারেনি তাঁদের শোকার্ত পরিবার। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুনির্দিষ্ট কারণ, মামলার বিবরণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রিয়াদকে পাঠানো কূটনৈতিক নোটের বিপরীতে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।

রোববার (১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটকে আগে থেকে কোনো ধরনের তথ্য বা আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়নি। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে (SPA) প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আকস্মিক বিবৃতি দেখেই কেবল কনস্যুলেট বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। পরবর্তীতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, আদালতের মূল রায়, বিচার প্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তার সুযোগ এবং মরদেহের বর্তমান পরিণতি বা হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক নোট বা ডিপ্লোম্যাটিক নোট পাঠায় ঢাকা।

ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন ও পরিবারের আকুতি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বিশেষ করে ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের কারাবন্দী অবস্থায় বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে কোনো রকম বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলেটকে বিষয়টি অবহিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেই আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নিহত নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের পরিবার এবং বিশেষ করে সুইটির বাবা আকুল আবেদন জানিয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন যে, জীবিত অবস্থায় তাঁদের সন্তানের পাশে দাঁড়ানো না গেলেও অন্তত তাঁদের মরদেহ বা শেষ দেহাবশেষ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশ্ন ও হাইকোর্টে রিট অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি কারাগারে আটক থাকা সত্ত্বেও তাঁরা যে মৃত্যুদণ্ডাদেশের মুখোমুখি ছিলেন, সে বিষয়ে তাদের পরিবার কিংবা জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ মিশন—কেউই পূর্বাহ্নে কিছু জানত না বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।

সৌদি জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ মিশনের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সুরক্ষার ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে জোরালো প্রশ্ন ওঠার পর গত ২৮ অক্টোবর এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ওই রিট আবেদনে সৌদি কারাগারে বাংলাদেশিদের আটক, বিচার প্রক্রিয়া এবং কনস্যুলার সহায়তার বিস্তারিত বিবরণসংক্রান্ত সব গোপনীয় ও প্রকাশ্য নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের কঠোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency