| বঙ্গাব্দ

মধুমতির বুকে নৌকা বাইচ, তীরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-11-2026 ইং
  • 33768 বার পঠিত
মধুমতির বুকে নৌকা বাইচ, তীরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
ছবির ক্যাপশন: তীরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

মাগুরার মধুমতীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ: লাখো মানুষের উল্লাস, প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এলাংখালী সেতুসংলগ্ন মধুমতী নদীর দুই তীরে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নদীর দক্ষিণ পাড়ের রুইজানি এলাকা থেকে একে একে ছুটে আসে ১২টি সুসজ্জিত সুদৃশ্য বাইচের নৌকা। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষের সরব উপস্থিতি ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নদীর তীর। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এই মধুমতি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ঘিরে যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল পুরো এলাকা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুরে এলাংখালী সেতুসংলগ্ন মধুমতী নদীতে এই জমজমাট ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

বৈঠার ছন্দে মুখরিত মধুমতী তীর দুপুর গড়িয়ে ঘড়ির কাঁটা যখন ঠিক সাড়ে তিনটার ঘরে পৌঁছায়, তখনই কাঙ্ক্ষিত সেই ক্ষণটি হাজির হয়। চড়ন্দারের ঘণ্টার ‘টং টং’ আওয়াজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাইচারদের সারি গান ও হেলেদুলে বইঠা টানার প্রাণবন্ত দৃশ্য উপস্থিত লাখো দর্শককে দারুণভাবে উদ্দীপ্ত করে। খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সুসজ্জিত ১২টি শক্তিশালী বাইচের নৌকা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। নৌকার গতি ও বৈঠার ছন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে মধুমতী নদীর জলরাশি।

এই নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে মহম্মদপুর উপজেলা সদর ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় ছিল সাজসাজ রব।

প্রধান অতিথির বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণ ‘মহম্মদপুর মধুমতি নৌকাবাইচ মেলা-২০২৬ পরিচালনা কমিটি’র উদ্যোগে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রূপায়ন গ্রুপের আর্থিক সহযোগিতায় এই বর্ণিল আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

মধুমতী নৌকাবাইচ ও মেলা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. মৈমুর আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. হাসিনা মোমতাজ, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুনাহার এবং মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী প্রমুখ।

গ্রামীণ সংস্কৃতির এই প্রাচীন ও জনপ্রিয় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency