উপসাগরীয় অঞ্চলকে পরাশক্তির সংঘাতের ক্ষেত্র না বানানোর আহ্বান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলকে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক সংঘাত কিংবা প্রতিযোগিতার ময়দান বা ক্ষেত্র বানানো কোনোভাবেই উচিত নয় বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে আরব দেশগুলোর সুদৃঢ় বন্ধু হিসেবে বেইজিং একত্রে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
বৈঠকের পটভূমি ও শি জিনপিংয়ের বক্তব্য
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফরে এলেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক। দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রবিবার বেইজিংয়ে পৌঁছান তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত দাপ্তরিক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে শি জিনপিং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব শতবর্ষের মধ্যে দেখা যায়নি এমন এক ‘সুদূরপ্রসারী ও গভীর পরিবর্তনের’ মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে শি জিনপিং আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল কোনোভাবেই পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ময়দান হওয়া অনুচিত। এই কৌশলগত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সদিচ্ছা এবং জোরালো সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি।”
পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে বেইজিং শুরু থেকেই দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট সমাধানে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে নিজস্ব অবদান রাখতে চায় বলে ওমানের সুলতানকে জানান তিনি।
সুলতান হাইথামের প্রতিক্রিয়া
ওমানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সংকটেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের নেওয়া সুনির্দিষ্ট নিরপেক্ষ অবস্থান ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় চীনের এই ভূমিকা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।