রংপুরে ভূমিহীনদের অধিকার, সরকারি খাসজমি বণ্টন এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সংগঠনটির জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আগে পুনর্বাসন, পরে উন্নয়ন’ এবং ‘খাসজমির অধিকার ভূমিহীন জনতার’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভূমিহীনদের জন্য বিশেষ কার্ড, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন এবং ভূমি সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম।
তিনি বলেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে কোনোভাবেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই হওয়া উচিত উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।
দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
হাসনাত কাইয়ুম আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। জনস্বার্থবিরোধী আমলাতান্ত্রিক ও ঔপনিবেশিক আইন বাতিল করে রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে।
সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমিহীন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রত্যেক ভূমিহীনকে সরকারি ‘ভূমিহীন কার্ড’ প্রদান।
ভূমিহীনদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা।
স্বাধীন ‘ভূমি-কৃষি সংস্কার কমিশন’ গঠন।
ভূমিহীনদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা।
প্রকৃত ভূমিহীন ও কৃষকদের মধ্যে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কনক রহমান।
তিনি রংপুর অঞ্চলের স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, বিভাগের সব ভূমিহীনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বাসন করতে হবে।
এ ছাড়া রংপুর জেলায় শিল্প-কলকারখানা স্থাপন এবং কৃষি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আমিন উদ্দিন বিএসসি, সংগঠনের লালমনিরহাট জেলার আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কামরুজ্জামান টিপু, গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক মোছা. শাহীনুর বেগম এবং কুড়িগ্রাম জেলার কৃষক আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম জুয়েল।
বক্তারা খাসজমি বণ্টন প্রক্রিয়ায় ভূমিহীনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের খাসজমি বণ্টন কমিটিতে ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে ভূমিদস্যুদের দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীন ও কৃষকদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বৈষম্যহীন উন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক সংসদীয় আসন নির্ধারণ।
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখা।
জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন রংপুর বিভাগের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রায়হান কবীরের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেএসডি রংপুর মহানগরের সভাপতি এবিএম মশিউর রহমান, রংপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল আলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসেম মুন্সি, সদস্যসচিব মোছা. ফাতেমা আখতার, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশলেমুদ্দিন।
এ ছাড়া মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোছা. সামছুন্নাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক লিলি বেগম, সদস্যসচিব সেলিম মিয়া এবং যুগ্ম সদস্যসচিব আয়শা বেগম বক্তব্য দেন।
সমাবেশের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীরা রংপুর শহরে একটি শোভাযাত্রা বের করেন। পরে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।
ভূমিহীনদের পুনর্বাসন, খাসজমির ন্যায্য বণ্টন, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে রংপুরের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন আন্দোলনের নেতারা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |