বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন সম্পর্কিত স্পষ্ট রোডম্যাপের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী ১৬ এপ্রিল দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বুধবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছে। তিনি বলেন, "বিএনপি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা জরুরি বলে মনে করে।"
এই সময়, বিএনপির সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবে রাষ্ট্রে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের আইন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যে ভারসাম্য প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অপরিহার্য।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বিএনপি পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বাবস্থা বজায় রাখতে চায়। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের বিষয়ে বিএনপি কোনও প্রস্তাবনা দেয়নি, এ বিষয়ে যে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, তা পরিষ্কার করেছেন তিনি। এই বিষয়ে দলটি মনে করে যে, দেশের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষতা প্রক্রিয়া বহাল থাকবে, এবং এতে ভুল ধারণা তৈরি হওয়া ঠিক নয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এই সাক্ষাতের উদ্যোগটি এবার একটু ভিন্ন। বিএনপি, সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা না আসায় দলটি সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়।
বিশেষভাবে, বিএনপি এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায় এবং সে বিষয়ে সরকারের মনোভাব ও পরিকল্পনা জানতে চাইছে। দলটি মনে করে, সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যদি কোন নির্দিষ্ট রোডম্যাপ না আসে, তবে এটি নির্বাচনের সার্বিক স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
বিএনপি, বিশেষ করে তাদের প্রতিনিধিরা পূর্বেও বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এই সাক্ষাতের মাধ্যমে দলটি নির্বাচন সম্পর্কিত সরকারের নির্দিষ্ট মনোভাব জানতে চায়। তারা জানাতে চায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের সহমত রয়েছে কিনা।
বিএনপি তাদের পক্ষ থেকে জনগণের মতামত ও নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করতে বিভিন্ন সময় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনায় বসতে চায়। দলটির দাবি, নির্বাচন পরিস্থিতি পরিষ্কার হলে তা সাধারণ জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা কমিয়ে আসবে।
বিএনপি মনে করে, নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জনগণ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে অস্থিরতা এবং অজানা পরিস্থিতি থাকবে। তাদের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার যদি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেয়, তবে এর মাধ্যমে জনগণকে নির্বাচন বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করা সম্ভব হবে।
এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রস্তাব দিলেও, সেই আলোচনা কি সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট সমাধানে পৌঁছাবে, তা এখনও সময়ের উপর নির্ভর করছে।
এছাড়া, বিএনপি তাদের সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাবে রাষ্ট্রের ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক কাঠামো প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পদ্ধতি এবং সরকারের কার্যকর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়াও, বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে যে, তারা ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল করার মতো কোনো অবস্থানে নেই। এই বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রতিবাদ জানিয়ে তারা জানিয়েছে, মূলত দেশের সংবিধানে যে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা রয়েছে তা পরিবর্তন করার কোনো প্রস্তাব তারা দেয়নি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |