| বঙ্গাব্দ

চিলমারিতে তিস্তা সেতুতে উত্যক্তের জেরে সংঘর্ষ, আহত ২০-২৫

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-04-2025 ইং
  • 4539175 বার পঠিত
চিলমারিতে তিস্তা সেতুতে উত্যক্তের জেরে সংঘর্ষ, আহত ২০-২৫
ছবির ক্যাপশন: চিলমারিতে তিস্তা সেতুতে উত্যক্তের জেরে সংঘর্ষ, আহত ২০-২৫

চিলমারীতে তিস্তা সেতুতে উত্যক্তের জেরে সংঘর্ষ, আহত ২০-২৫ জন

চিলমারী উপজেলার তিস্তা সেতুর নির্মাণাধীন এলাকায় উত্যক্তের ঘটনায় দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুরের মধ্যে, যখন নদী পাড়ের রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের শহরের মোড় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাটি শুরু হয় কিছুদিন আগে, যখন একটি মা-মেয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের তিস্তা সেতুর দিকে ঘুরতে যান। এ সময় তারা উত্যক্তের শিকার হন।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি গ্রামের মানুষ। পরে এই ঘটনাটি মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হলে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষের নারী-পুরুষদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয় এবং এতে বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ এপ্রিল, যখন চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া গ্রামের পশির উদ্দিনের মেয়ে ও তার মা তিস্তা সেতুতে ঘুরতে যান। সেখানে গাইবান্ধার হরিপুর ইউনিয়নের শহরের মোড় এলাকার তিন যুবক বিজয়, পাভেল, এবং সুমন তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করে এবং তাদের উত্যক্ত করে। যখন মা-মেয়ে প্রতিবাদ করেন, তখন যুবকরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। এই ঘটনার সময় রমনা ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাজু ও মোতালেব মিয়া প্রতিবাদ জানালে, যুবকরা তাদের মারধর করে।

এটি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উভয় গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মারামারি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে দক্ষিণ খরখরিয়া এলাকার আলমগীর হোসেন তার ভুট্টা ক্ষেত দেখতে গেলে, হরিপুর ইউনিয়নের শহরের মোড় এলাকার কিছু লোক তাকে বেধরক মারধর করে। মারধরের পর আলমগীর গুরুতর আহত হন এবং তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু অধিকাংশই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের লোকজন মাইকিং করে তাদের লোকজনকে সংঘর্ষে অংশগ্রহণের জন্য ডেকে নেয়, যার ফলে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কুড়িগ্রাম থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম জানিয়েছেন, ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করছে।

কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. সাফায়েত হোসেন বলেন, "সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।"

এদিকে, সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ জানিয়েছেন, পুলিশ ও প্রশাসন উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা এই ঘটনায় সমাধানের জন্য সম্মত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকাটি শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

এ ঘটনা এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, প্রশাসন পুরো বিষয়টির দিকে নজর রাখছে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency