| বঙ্গাব্দ

এনসিপি নির্বাচন সময়সূচী নিয়ে বিএনপির দাবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, নির্বাচন সংস্কারের পক্ষে দলটি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-04-2025 ইং
  • 4683251 বার পঠিত
এনসিপি নির্বাচন সময়সূচী নিয়ে বিএনপির দাবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, নির্বাচন সংস্কারের পক্ষে দলটি
ছবির ক্যাপশন: এনসিপি নির্বাচন সময়সূচী নিয়ে বিএনপির দাবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, নির্বাচন সংস্কারের পক্ষে দলটি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন সময়সূচী নিয়ে বিএনপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে, বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়, এবং ভোটের বিষয়ে জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক্ষেত্রে স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এনসিপি নেতারা বলেছেন, সরকারের দেয়া সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব, তবে তা বিচার ও সংস্কার সম্পন্ন না হলে তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে না।

বিচার ও সংস্কারের শর্তে নির্বাচন ইচ্ছা এনসিপির

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “বিচার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হলে, সরকারের দেয়া সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। তবে, যদি শুধু নির্বাচনের কথা বলা হয় এবং ঐকমত্য না থাকে, তাহলে বিএনপি জনগণের সাড়া পাবে না।”

এছাড়া, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, “যদি জনপ্রশাসন, পুলিশ, ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার না হয়, তাহলে ভোটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচনও সম্ভব হবে না।”

বিএনপির দাবি এবং এনসিপির মতামত

বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে যে দাবী জানিয়েছে, তা নিয়েও এনসিপি নেতারা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। আখতার হোসেন বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের দাবী করতে পারে, তবে তার গ্রহণযোগ্যতা বা জনগণের মাঝে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ। যদি পূর্বের অবস্থায় দেশে থাকেন, তাহলে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিজম ফিরে আসতে পারে।”

এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে ভোট না হলে দেশ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা এর মধ্যে চলে যায়, তাহলে তার দায় বিএনপিকেই নিতে হবে। সারোয়ার তুষার বলেন, “দলটি নির্বাচনের রোডম্যাপ নয়, বরং ডেডলাইন চাচ্ছে, অর্থাৎ নির্বাচনের তারিখ চাচ্ছে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “বিএনপি জাতীয় এজেন্ডা থেকে দলীয় এজেন্ডা বড় করে দেখছে।”

আন্তর্বর্তী সরকার ও এনসিপির সম্পর্ক

এদিকে, আন্তর্বর্তী সরকার বিষয়েও এনসিপির নেতারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এনসিপির নেতা সারজিস আলম ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচবছরের ক্ষমতায় থাকার পক্ষে কথা বলেছেন। তবে, এনসিপি এর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নয় বলে দাবি করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “এনসিপি সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক অংশীদার নয়, তবে বিশেষ উদ্দেশ্য অনুযায়ী সময় প্রয়োজন হলে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারে।”

এনসিপির নেতারা একই সঙ্গে বলছেন, “এনসিপি এই মুহূর্তে সরকারের কোনও বাড়তি আনুকূল্য পাচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সঠিক প্রতিযোগিতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার করার বিকল্প নেই।”

প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তোপ এনসিপির

এনসিপি নেতাদের দাবি, বর্তমানে প্রশাসনের ৯০% বিএনপি ও বাকী ১০% জামায়াতের পক্ষের হয়ে কাজ করছে। সারোয়ার তুষার বলেন, “বিএনপির সঙ্গে প্রশাসনের একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের পছন্দের লোকই প্রশাসনে রয়েছে। বিএনপির কথায় সংবিধান বাতিল, রাষ্ট্রপতি অপসারণজুলাই প্রক্লেমেশন হয়নি।”

এনসিপি এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদের বিপরীত অবস্থানে থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে, এবং তারা বলছে, “নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।”

নির্বাচন সংস্কারের ক্ষেত্রে এনসিপির সংকল্প

এনসিপির শীর্ষ নেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে আছেন, তবে গণঅভ্যুত্থান থেকে গড়ে ওঠা দল হিসেবে, তারা গণতন্ত্রের প্রকৃত পুনরুদ্ধার এবং সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচনকে সমর্থন করবে। এনসিপি দাবি করেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা অবশ্যই এতে অংশগ্রহণ করবে, তবে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব নয় বলে তারা দৃঢ় বিশ্বাসী।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency