ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় তাদের শেষ খাদ্য সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন আর তাদের কাছে কোনো খাদ্য মজুত নেই। এই ঘোষণার ফলে গাজায় চরম খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের দুই মাসব্যাপী অবরোধের কারণে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ সকল ধরনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ফলে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন সংকটে পড়েছে।
বিশেষ করে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত দাতব্য রান্নাঘরগুলো, যেগুলো প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের খাবারের সংস্থান করত, এখন তাদের শেষ খাদ্য সরবরাহ পেয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এসব রান্নাঘর সম্পূর্ণ খাদ্যশূন্য হয়ে পড়বে।
ডব্লিউএফপির তথ্যমতে, গাজার ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরাসরি দাতব্য খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই খাদ্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে গেলে জনজীবন আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যের অভাবে শিশুদের অপুষ্টি, রোগবালাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গাজার হাসপাতালগুলোতেও খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই অবরোধের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং অবিলম্বে মানবিক করিডর খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, তারা অবিলম্বে গাজায় খাদ্য সরবরাহের অনুমতি চাইছে, নতুবা পুরো অঞ্চলটি "দুর্ভিক্ষের মুখে" পড়বে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি গাজায় দ্রুত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ শুরু না করা হয়, তাহলে এটি শুধু মানবিক সংকটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, গাজায় ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বহু শিশু এবং বৃদ্ধ অপুষ্টিতে ভুগছেন। গর্ভবতী নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
গাজায় খাদ্যসংকট শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক সংকট, যেখানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ইসরায়েলকে দ্রুত মানবিক করিডর খুলে দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত গাজার অবরুদ্ধ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
অন্যথায়, এই দুর্যোগ আরও গভীর হবে এবং এর দায় পুরো বিশ্বকেই বহন করতে হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |