কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ওই জঘন্য ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন (১৯) অবশেষে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২ এর একটি বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সে আত্মগোপনে ছিল, তবে রোববার (৫ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকা থেকেই তাকে আটক করা হয়।
সোমবার (৬ মে) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে। এতে জানানো হয়, র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি গ্রামে ১২ বছর বয়সী এক শিশু প্রতিবেশী এক তরুণের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের ফলে শিশুটি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ভুগতে থাকে। বিষয়টি প্রথমে গোপন থাকলেও শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানেই মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
পরবর্তীতে শিশুটির বাবা মিরপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাব্বির হোসেনকে প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা চালায়।
র্যাব-১২ এর একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, সাব্বির মিরপুর এলাকায়ই অবস্থান করছে। রোববার সন্ধ্যায় একটি সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে। তাকে মিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাব জানায়, এ ধরনের বর্বর অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তারা দেশের যে কোনো প্রান্তে শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ঘটনার পর কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ, সমাজকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ধর্ষণের ঘটনার বিচার দাবি করে নানা প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।
স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, “এই ধরনের অপরাধ সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, পরিবার, স্কুল ও পুরো সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
আইনজীবীরা মনে করছেন, এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা উচিত, যাতে আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সুবিধা প্রদান করা জরুরি।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিশু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |