| বঙ্গাব্দ

আমাদের দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাই”: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-06-2025 ইং
  • 4628557 বার পঠিত
আমাদের দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাই”: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত দল জামায়াতে ইসলামী। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, সহিংস রাজনীতি এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—সবই বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সেই দলের সর্বোচ্চ নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ঠিকানা টিভির এক টকশোতে এক প্রশ্নের জবাবে নতুন এক মানবিক ও দায়িত্বশীল অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন:

“১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে, আমি তাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।”

বক্তব্যের মূল অংশ:

  • ক্ষমা প্রার্থনা: "মাফ চাওয়ার মধ্যে কোনো পরাজয় নেই, লজ্জা নেই। আমি মানবিক দায়িত্ব থেকে ক্ষমা চেয়েছি।"

  • ভুলের স্বীকৃতি: "দলীয় সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। ইতিহাসই ঠিক করে দেবে কোনটা ভুল, কোনটা সঠিক।"

  • আদর্শবাদ: "আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই, কিন্তু আমরা আদর্শবাদী।"

  • আসন ছাড়ার প্রস্তুতি: "জোটগত রাজনীতিতে প্রয়োজনে আমি শরিক দলের জন্য নিজ আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।"

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার: "আমরা চাই প্রবাসীরাও ভোট দিতে পারেন। সে জন্য জামায়াত সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিচ্ছে।"

বিশ্লেষণ: কেন এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ?

১. রাজনৈতিক পুনর্ব্র্যান্ডিংয়ের বার্তা

এই বক্তব্য অনেকের কাছে জামায়াতের নতুন এক মানবিক মুখ উপস্থাপনের প্রয়াস মনে হতে পারে। অতীতে তাদের ‘ক্ষমা না চাওয়ার’ অবস্থান ছিল তীব্র সমালোচিত। এখন যখন দলের নিবন্ধন ও নির্বাচনী রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা চলছে, তখন এমন বক্তব্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

২. রাজনৈতিক সহনশীলতার ইঙ্গিত

জোট রাজনীতির ক্ষেত্রেও এক উদার ও নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন আমির, যা দলীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে সমঝোতার বার্তা বহন করে।

৩. প্রবাসী ভোটার ইস্যুতে শক্ত অবস্থান

বর্তমানে প্রায় ১ কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে জামায়াতের জোরালো অবস্থান নির্বাচনী কৌশলের অংশও হতে পারে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মতামত:

ড. আফসারুল হক (রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাবি):

“জামায়াতের আমিরের এই বক্তব্য একদিকে যেমন মানবিক, অন্যদিকে এটি কৌশলগতভাবে দলের নতুন ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে ক্ষমা চাইতে চাইলেই জনগণ গ্রহণ করে নেবে—এমনটা ভাবাও ঠিক নয়।”

প্রেক্ষাপট: জামায়াতের অতীত ও বর্তমান

বিষয়অবস্থা
১৯৭১ সালের ভূমিকাবিতর্কিত, অনেক নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে
নিবন্ধন২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে বাতিল
বর্তমান লক্ষ্যনির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনীতিতে পুনঃপ্রবেশ
জনপ্রিয়তাতরুণদের মাঝে সীমিত প্রভাব; ধর্মীয় ইস্যুতে আগ্রহ কিছু আছে
উপসংহার:

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনেক দিক থেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই ক্ষমা কতটা আন্তরিক এবং রাজনৈতিকভাবে কার্যকর হবে, তা সময় বলবে। তবে এটুকু বলা যায়—এটি একটি সতর্ক পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা অতীতের তুলনায় এক নতুন রাজনৈতিক শৈলী উপস্থাপন করছে।

FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন):

১. কে এই মন্তব্য করেছেন?
→ ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির।

২. কোথায় এই বক্তব্য দিয়েছেন?
→ ‘ঠিকানা টিভি’র একটি টকশো অনুষ্ঠানে।

৩. তিনি কীসের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন?
→ ১৯৪৭ সাল থেকে দলের মাধ্যমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, নিঃশর্তভাবে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

৪. তিনি কি নির্বাচনে অংশ নেবেন?
→ হ্যাঁ, প্রয়োজনে শরিক দলের জন্য আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

৫. জামায়াত এখন রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে কি?
→ হ্যাঁ, তারা নিবন্ধন ফিরে পেতে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency