জাতীয় ও অপরাধ ডেস্ক | ২৩ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গা শিউরে ওঠা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, মূল ঘাতক স্বামীকে পালিয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় দিতেই ঘটনার পর ভেতর থেকে ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা খোলেননি স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। স্বামী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি দরজা খোলেন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গত ১৯ মে সকালে রামিসার মা যখন নিখোঁজ সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি সোহেল রানা যেন সহজে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল রানা ঘরের জানালার লোহার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, স্বপ্না নিজে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রতিবেশী এই মাদকাসক্ত যুবকের বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নাটোরের সিংড়া থানার নিমাকদমা চৌদ্দগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশু রামিসার পরিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে এসে ওই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছিল।
ঘটনার পরপরই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মূল আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে স্বপ্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান:
“পাশের ফ্ল্যাটেই থাকত ঘাতক মাদকাসক্ত সোহেল। দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা থেকে সোহেল শিশুটিকে টেনে নিজের রুমের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান বুধবার (২০ মে) আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করেন। আদালতে সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটকে রাখার পৃথক দুটি আবেদন করা হয়।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটের ভেতর নিয়ে যান। সাড়ে ১০টার দিকে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করার সময় ওই ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতির ভেতর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) মিডিয়া উইং: ১৯ মে, ২০২৬ তারিখে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম কর্তৃক আয়োজিত অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনের তথ্য।
ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালত রেকর্ড: ২০ মে, ২০২৬ তারিখে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ডকৃত আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি ও আইনি আদেশের কপি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |