২০২১ সালের দিকে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ এক বিশাল কর্মসূচি নিয়েছিল—কোভিড পরবর্তী সময়ে এটা ছিলো তাদের পুনরুত্থানের বড় পদক্ষেপ। তখন এক বন্ধু, যিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কথায় কথায় বললেন, তিনি নাকি "রসগোল্লার গ্রুপে" আছেন।
"রসগোল্লা?"—প্রথমে আমি হাসি চেপে রাখতে পারিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনের একজন নারী নেত্রীকে কেন্দ্র করে এই নামের উৎপত্তি। রাজনৈতিক শ্রদ্ধা নয়, বরং গুজব আর কল্পনায় তৈরি এক ‘রোমান্টিক ফ্যান্টাসি’ থেকে উদ্ভূত এ নামকরণ।
বন্ধুটির সরল স্বীকারোক্তি ছিলো, “কুমিল্লা ছাত্রলীগে এমন কেউ নাই যে সূচনারে কল্পনা কইরা হ্যান্ডেল মারে নাই।”—এ কথায় যেন রাজনীতির গাম্ভীর্য এক নিমিষেই উবে গেল।
এইসব অভ্যন্তরীণ অবক্ষয় যে ছাত্ররাজনীতিকে কোথায় নামিয়ে এনেছে, তা বলাই বাহুল্য। যে সংগঠন একসময় আদর্শ ও নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম ছিল, এখন অনেক জায়গায় সেটা হয়ে গেছে তাবেদারি, চাটুকারিতা আর সুযোগসন্ধানীদের মিলনমেলা।
কালাম আজাদ সিদ্দিকী, নাজমুলদের কমিটির পর ছাত্রলীগের যত কমিটি এসেছে, তার অনেকগুলোই অকার্যকর, অন্তঃসারশূন্য। অথচ ছাত্রলীগ ছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের পেছনে একটি প্রাণশক্তি, যার গৌরবময় ইতিহাস কেউ অস্বীকার করতে পারে না।
বর্তমান আওয়ামী লীগ কেন বিএনপি-জামায়াতের পুনরুত্থান ঠেকাতে পারছে না, এর একটা বড় কারণ তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনাও। গত ১৫ বছরে তারা যেভাবে একটি একমুখী, একদলীয় ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে—তা এখন তাদের পেছনেই ছুরি মারছে।
আর সবচেয়ে বড় ironi হলো, এই বুদ্ধিবৃত্তিক ধ্বংসযজ্ঞের নেতৃত্বে ছিলেন নিজেরাই—শেখ হাসিনা ও তার পরিবার। তাঁরা বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠগুলোকে কোণঠাসা করে দিয়েছে, বিরুদ্ধমতকে দমন করেছে, আর দলে তোষামোদিদের স্থান দিয়েছে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |